রাজনীতি

জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল নিষিদ্ধের দাবি জুলাই ঐক্যের

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থী হিসেবে বৈধতা দেওয়াকে ‘রাষ্ট্রীয় আইনের চরম লঙ্ঘন’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানিয়েছে জুলাই ঐক্য। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতি কঠোর আহ্বান জানানো হয়েছে।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরেন সংগঠনটির নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে জুলাই ঐক্যের সংগঠক প্লাবন তারেক, জয়নাল আবেদিন শিশির, ইসরাফিল ফরাজী, মুন্সি বুরহান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে চানখাঁরপুল হত্যা মামলার রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট উল্লেখ করে তা প্রত্যাখ্যান করা হয় এবং রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের আহ্বান জানানো হয়।

জুলাই ঐক্যের নেতারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাষ্ট্রের আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে ঋণখেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকদের বৈধতা ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। এবারের নির্বাচনে ঋণখেলাপি হয়েও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন কমপক্ষে ৪৫ জন প্রার্থী। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশসহ (আরপিও) বিভিন্ন আইনে ঋণখেলাপিদের আটকানোর সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কিন্তু এসব প্রতিবন্ধকতা পেরিয়ে ৪৫ জন ঋণখেলাপি বেরিয়ে গেলেও বাদ পড়েছেন ৬৮ জন।

তারা বলেন, এই নির্বাচন কমিশন নিজেদের মনমতো মনোনয়নের বৈধতা দিচ্ছে। যারা রাষ্ট্রের টাকা চুরি করেছে, তারা নির্বাচন করবে এবং গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তাদের ভোট দিতে হবে—তা সাংঘর্ষিক। এই নির্বাচন কমিশন মুখে ইনসাফের কথা বললেও আদতে রাজনৈতিক দলগুলোর মন জয় করতে তারা মরিয়া।

‘এই ঘটনা দ্বৈত নাগরিক ইস্যুতেও দেখা যায়। যারা দুর্নীতি করে, দেশের টাকা লুটপাট করে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছে, সামনে ক্ষমতায় বসে অর্থপাচার করবে, তাদেরও বৈধ প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।’

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি গণহত্যার সঙ্গে জড়িত ও সংস্কারের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দলকে নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা করার দাবিতে ২ মাস যাবৎ আন্দোলন করছে জুলাই ঐক্য। হাইকোর্টে রিট এবং নির্বাচন অভিমুখী পদযাত্রা ও স্মারকলিপি দিয়েছে জুলাই ঐক্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি, গণহত্যাকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে বলা হয়, অবিলম্বে জাতীয় পার্টি, এনডিএফসহ ১৪ দল ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের মনোনয়ন বাতিল করুন। অন্যথায় দেশের সাধারণ ছাত্রজনতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে তার সব দায়ভার নির্বাচন কমিশনকে বহন করতে হবে।

ইএআর/ইএ