দেশজুড়ে

মোংলায় এক মঞ্চে সব প্রার্থী, স্বাক্ষর করলেন অঙ্গীকারনামায়

বাগেরহাট-৩ (মোংলা-রামপাল) আসনে একমঞ্চে দেখা গেলো প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সব সংসদ সদস্য প্রার্থীকে। সোমবার বেলা ১১টা মোংলার শ্রমিক সংঘের মাঠে ‘জনগণের মুখোমুখি’ শিরোনামে এ আয়োজন করে সুশানের জন্য নাগরিক (সুজন) মোংলা উপজেলা কমিটি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সুজন মোংলার সভাপতি ফ্রান্সিস সুদান হালদার। এতে অংশ নেন বাগেরহাট-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম, জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের অধ্যক্ষ শেখ জিল্লুর রহমান ও জাসদ মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান মাস্টার।

এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নী জেনারেল অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, সুজন’র খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রঞ্জু। সুজন’র মোংলা শাখা সম্পাদক মো. নূর আলম শেখ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।

অনুষ্ঠানে প্রার্থীরা জনগণের সামনে তাদের নির্বাচনি ইশতেহার তুলে ধরেন। এরপরে জনগণের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের প্রশ্ন করা হয় ও প্রার্থীরা সেসব প্রশ্নে উত্তর দেন।

এক প্রশ্নের জবাবে বিএনপির প্রার্থী লায়ন ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, নির্বাচিত হলে জোরপূর্বক অন্যের জমিতে কেউ চিংড়ি চাষ করতে পারবে না। বিএনপি ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বিশ্বাস করে। বিএনপি মনে করে ধর্ম যার যার, দেশ সবার।

আরেক প্রশ্নের জবাাবে জামায়াতের প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ বলেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সৎলোকের শাসন প্রতিষ্ঠা করবে। মাদকমুক্ত সমাজ গঠন করবে। সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করবে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের জন্য আজ একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই যথেষ্ট নয়, দরকার গণতান্ত্রিক উত্তরণ। তাই দরকার কতগুলো আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও কাঠামোগত সংস্কার। দরকার রাজনৈতিক নীতি ও মূল্যবোধের পরিবর্তন। তাই এবার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোটের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়যুক্ত হলে দেশে পরিবর্তন আসবে।

বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় সুজন’র খুলনা বিভাগীয় সমন্বয়কারী মাসুদুর রহমান রঞ্জু বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর মানুষের মধ্যে এই আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে যে, আর যেন কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরুত্থান না ঘটে। নির্বাচন ব্যবস্থা যেন পরিশুদ্ধ হয়, গণতন্ত্র যেন প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। সর্বোপরি সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায় বিচারভিত্তিক একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রে যাতে সুশাসন কায়েম হয়।

জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে প্রার্থীগণ সুস্পষ্ট অঙ্গীকারনামায় স্বাক্ষর করেন যা অনুষ্ঠানে পাঠ করে শোনানো হয়। জনগণের মুখোমুখি অনুষ্ঠানে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থী নির্বাচনের জন্য ভোটারদের শপথবাক্য পাঠ করানো হয়।

আবু হোসাইন সুমন/এমএন/এমএস