লাইফস্টাইল

বেনারসি শাড়ি নতুনের মতো রাখবেন যেভাবে

 

বাঙালি পরিবারে বিয়ে মানেই কনের সাজে বেনারসি শাড়ির অপরিহার্য উপস্থিতি। বেনারসি শুধু একটি পোশাক নয়, এটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা ঐতিহ্যের প্রতীক। সূক্ষ্ম নকশা, জটিল বুনন আর ঝলমলে জরির কাজ-সব মিলিয়ে বাঙালি সংস্কৃতিতে এই শাড়ির আলাদা মর্যাদা রয়েছে।

বিয়ের মতো জমকালো অনুষ্ঠানে পরা বেনারসি শাড়ি সাধারণত খুব বেশি ব্যবহার করা হয় না। বেশির ভাগ সময়ই এটি আলমারির কোণে তুলে রাখা থাকে। কিন্তু ঠিকঠাকভাবে সংরক্ষণ না করলে দামি এই শাড়ি ধীরে ধীরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে উঠতে পারে। তাই বেনারসির যত্নে একটু সচেতন হওয়া জরুরি।

কেন বেনারসি শাড়ির আলাদা যত্ন প্রয়োজনখাঁটি বেনারসি তৈরি হয় রেশম দিয়ে, যার উপর থাকে সূক্ষ্ম জরির কারুকাজ। রেশম ও জরি-এই দুই উপাদানই আর্দ্রতা, অতিরিক্ত রোদ এবং রাসায়নিক পদার্থের প্রতি খুব সংবেদনশীল। ভুল সংরক্ষণে শাড়ির রং ফিকে হয়ে যেতে পারে, জরি কালচে হতে পারে কিংবা কাপড় দুর্বল হয়ে ছিঁড়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়। সাধারণ সিল্ক শাড়ির তুলনায় বেনারসি ভারী হওয়ায় ব্যবহার ও সংরক্ষণ-দুটিতেই বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।

সংরক্ষণের আগে যা খেয়াল রাখবেনআলমারিতে তোলার আগে শাড়িতে কোনো দাগ বা ময়লা আছে কি না দেখে নিতে হবে। দাগ লেগে থাকলে স্থায়ী ক্ষতির কারণ হতে পারে। পরিষ্কার করার পর কখনোই বেনারসি শাড়ি হ্যাঙারে ঝুলিয়ে রাখা উচিত নয়। শাড়ির ওজনের কারণে এতে টান পড়ে কাপড়ের গঠন নষ্ট হয়ে যেতে পারে। বরং শাড়িটি আলতো করে ভাঁজ করে রাখা সবচেয়ে নিরাপদ।

মসলিন কাপড়ে মুড়ে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদবেনারসি শাড়ি সংরক্ষণের জন্য মসলিন কাপড় সবচেয়ে উপযোগী। প্লাস্টিকের কভার ব্যবহার করলে ভেতরে আর্দ্রতা জমে ছত্রাক বা দুর্গন্ধের সমস্যা তৈরি হতে পারে। মসলিন কাপড় শাড়িকে বাতাস চলাচলের সুযোগ দেয়, পাশাপাশি ধুলা ও পোকামাকড় থেকেও রক্ষা করে। ভাঁজের মাঝে অ্যাসিড-ফ্রি টিস্যু পেপার রাখলে ভাঁজের দাগ পড়ার আশঙ্কাও কমে।

ভাঁজ বদলানো জরুরিদীর্ঘদিন একইভাবে ভাঁজ করে রাখলে সিল্ক শাড়িতে স্থায়ী ভাঁজ পড়ে যেতে পারে। তাই কয়েক মাস অন্তর শাড়ি খুলে নতুন করে ভাঁজ করা উচিত। এতে কাপড়ের উপর চাপ কমে এবং পোকা বা ছত্রাকের কোনো সমস্যা থাকলে আগেভাগেই ধরা পড়ে।

পোকামাকড় থেকে বাঁচাতে নিমপাতামথ বা সিলভারফিশের মতো পোকা সিল্কের বড় শত্রু। শাড়ির পাশে শুকনো নিমপাতা রাখলে প্রাকৃতিকভাবেই পোকামাকড় দূরে থাকে। এতে কোনো রাসায়নিক ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে না এবং শাড়িও নিরাপদ থাকে।

জায়গা নির্বাচনেও সতর্কতাবেনারসি শাড়ি রাখার জন্য ঠান্ডা, শুকনো ও বাতাস চলাচল করে এমন জায়গা বেছে নেওয়া জরুরি। মাঝে মাঝে শাড়ি বের করে হালকা বাতাসে মেলে দিলে স্যাঁতসেঁতে গন্ধও জমে না। ঠিকভাবে যত্ন নিলে বেনারসি শাড়ি দশকের পর দশক একই সৌন্দর্য বজায় রাখতে পারে।

পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে সাবধানতাবেনারসি শাড়ি সবসময় ড্রাই ক্লিন করানোই সবচেয়ে নিরাপদ। যেহেতু এই শাড়ি খুব ঘনঘন পরা হয় না, তাই বারবার পরিষ্কারেরও প্রয়োজন নেই। সুবিধামতো একবার ড্রাই ক্লিন করিয়ে রেখে দিলেই যথেষ্ট। ভুলেও বাড়িতে কাচতে যাবেন না।

জরির কাজ করা অংশের উল্টা দিকে নেট লাগিয়ে রাখলে টান পড়ার ঝুঁকি কমে। আর শাড়ির উপর সরাসরি কখনোই সুগন্ধি বা পারফিউম ব্যবহার করা যায় না। এতে দাগ পড়ে যেতে পারে, যা সহজে ওঠে না।

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

আরও পড়ুন:হৃত্বিক রোশনের ছবির পোজ দেওয়ার সিক্রেট ওয়াশিং মেশিন নয়, প্রয়োজন হাতের যত্ন 

এসএকেওয়াই/