ক্যাম্পাস

ফের জালিয়াতিতে ধরা পড়লেন পাবিপ্রবির বরখাস্ত কর্মচারী মাহফুজ

পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) ব্যাংকের স্বাক্ষর ও সিল জালিয়াতি করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে অফিস সহকারী মো. মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে।

অভিযুক্ত এই কর্মচারী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)-এ অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। এর আগেও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রোভিসি ও ট্রেজারারের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে ধরা পড়েন। পরে তাকে গত ২ ডিসেম্বর ২০২৫ সালে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গতকাল বুধবার ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি) থেকে মাহফুজকে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার জন্য পাঠানো হয়। তিনি ফান্ডের ২৯,৮৫৭ টাকা জমা না দিয়ে ভুয়া রশিদ তৈরি করে দপ্তরে জমা দেন। পরবর্তীতে হিসাব মেলাতে গিয়ে দেখা যায়, রশিদে প্রয়োজনের চেয়ে ২,১৩০ টাকা বেশি জমা দেখানো হয়েছে। এই অমিল দূর করতে ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে গেলে জানা যায়, ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের ফান্ডে কোনো টাকাই জমা পড়েনি।

জনতা ব্যাংক পাবিপ্রবি শাখার ব্যবস্থাপক এস এম আবু সায়েম জানান, জমা রশিদে ব্যবহৃত সিলটি ব্যাংকের মূল সিলের তুলনায় বড় এবং সেখানে দেওয়া কর্মকর্তার স্বাক্ষরটিও জাল। তিনি কোনো টাকা জমা না দিয়ে সিল ও স্বাক্ষর নকল করে আলাদা জমা রশিদ তৈরি করেন। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, মাহফুজুর রহমান ব্যাংকে টাকা জমা না দিয়ে তা নিজের কাছেই রেখে দেন। বিষয়টি আমরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করি।

বরখাস্ত অবস্থায় একজন কর্মচারীকে দপ্তরে কাজ করানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার বিজন কুমার ব্রক্ষ্ম বলেন, বরখাস্ত হলে তার আর সক্রিয় চাকরি থাকে না। বিধি অনুযায়ী, তিনি কেবল খোরপোষ ভাতা পাবেন। এ ক্ষেত্রে তার জন্য আলাদা হাজিরা ব্যবস্থা ও আলাদা ডেস্ক নির্ধারিত থাকার কথা।

অভিযুক্ত কর্মচারী মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে আইকিউএসি সেলের পরিচালক ড. শামীম রেজা বলেন, গতকাল বিকেলে এই ঘটনা ঘটেছে। এরপর অফিস বন্ধ হয়ে যায়। প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এখন তারা সিদ্ধান্ত নেবে। দপ্তরের এক কর্মকর্তা তাকে এই টাকা ব্যাংকে জমা দিতে পাঠান। আর এই ঘটনার সময় আমি অফিসে উপস্থিত ছিলাম না।

কেএইচকে/এমএস