প্রশ্ন: বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার পর তিনবার ‘কবুল’ না বললে কি বিয়ে শুদ্ধ হয় না? আমাদের এলাকায় অনেকে মনে করেন তিনবার কবুল না বললে বিয়ে শুদ্ধ হয় না। আর পাত্রীর জন্য কি বিয়ের সম্মতি জানানোর সময় ‘কবুল’ বলা জরুরি?
উত্তর: শরিয়তের দৃষ্টিতে বিয়ের ইজাবের (প্রস্তাবের) পর সাক্ষীদের শুনিয়ে একবার কবুল করলেই বিয়ে হয়ে যায়। দুইবার বা তিনবার কবুল বলা অপরিহার্য নয়। (ফাতাওয়া শামী, ফাতাওয়া আলমগিরী)
যদি প্রথমবার কবুল বলার পর স্বাক্ষীরা না শোনেন, তাহলে তাদের শোনা নিশ্চিত করার জন্য আরেকবার কবুল বলা যেতে পারে। কিন্তু সব ক্ষেত্রে গুনে গুনে তিনবার কবুল বলার যে প্রচলন অনেক এলাকায় দেখা যায় এটা সঠিক নয়। তিনবার কবুল না বললে বিয়ে শুদ্ধ হবে না এই ধারণাও সঠিক নয়।
শরিয়তের নিয়ম অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক কনের সম্মতি ছাড়া বিয়ে হয় না। বিয়ের সময় তার সম্মতি নেওয়া জরুরি। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে সংকলিত একটি বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, কোন বিধবা নারীকে তার স্পষ্ট সম্মতি বা নির্দেশনা ছাড়া বিয়ে দেয়া যাবে না এবং কুমারী নারীকে তার অনুমতি ছাড়া বিয়ে দেওয়া যাবে না। সাহাবিরা জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল কীভাবে অনুমতি নেবো? রাসুল (সা.) বললেন, তার চুপ থাকাটাই অনুমতি গন্য হবে। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
হাদিসে পূর্ববিবাহিতা বা বিধবা কনে এবং কুমারী কনের সম্মতির ক্ষেত্রে পার্থক্য করা হয়েছে। যেহেতু পূর্ববিবাহিতা কনে বিয়ের ব্যাপারে মতামত দিতে সংকোচ করেন না, তাই তার স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া বিয়ে হবে না। কুমারী কনে যেহেতু এ সব ব্যাপারে কথা বলতে, মতামত দিতে লজ্জা পান, তাই তার বিরোধিতা না করা বা মৌনতাই সম্মতি গণ্য হবে। অভিভাবক পাত্রের বিস্তারিত জানিয়ে কনের মতামত জিজ্ঞাসা করবেন, কনে যদি হাসেন বা চুপ করে থাকেন, বোঝা যায় তার অমত নেই, তাহলে তা তার সম্মতি গণ্য হবে।
কিন্তু পূর্ববিবাহিতা বা কুমারি কারো ক্ষেত্রেই বিয়েতে সম্মতি জানাতে ‘কবুল’ বলা জরুরি নয় বা কবুল বলার প্রয়োজনও নেই। অভিভাবক কনের সম্মতি নিয়ে দুজন সাক্ষীর উপস্থিতিতে নিজে বা যিনি বিয়ে পড়াবেন তার মাধ্যমে প্রস্তাব দেবেন, বর ‘কবুল করলাম’ বললে বিয়ে হয়ে যাবে।
ওএফএফ