ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে আলোচনায় কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বড় ধরনের হামলার কথা বিবেচনা করছেন। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র এমন তথ্য জানিয়েছেন।
ট্রাম্পের সর্বশেষ হুমকিতে তেহরান ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির এক শীর্ষ উপদেষ্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হামলা হলে ইরান ইসরায়েলকে লক্ষ্যবস্তু করবে।
বুধবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ পোস্ট করে ইরানকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানান। তিনি লিখেন, একটি ন্যায্য ও সমতাভিত্তিক চুক্তির জন্য আসুন—কোনো পারমাণবিক অস্ত্র নয়। তিনি সতর্ক করে বলেন, ভবিষ্যতের কোনো হামলা গত গ্রীষ্মের হামলার চেয়েও ভয়াবহ হবে।
সূত্রদের মতে, বর্তমানে ট্রাম্প যে বিকল্পগুলো বিবেচনা করছেন, তার মধ্যে রয়েছে ইরানের নেতা ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ওপর বিমান হামলা। এছাড়া পারমাণবিক স্থাপনা ও সরকারি প্রতিষ্ঠানেও হামলার পরিকল্পনা রয়েছে।
এখনো ট্রাম্প চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। তবে তিনি মনে করেন, এ অঞ্চলে মার্কিন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েনের ফলে সামরিক বিকল্প এখন আরও বিস্তৃত হয়েছে।
ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ সোমবার ভারত মহাসাগরে প্রবেশ করেছে এবং ধীরে ধীরে ইরানের দিকে এগোচ্ছে। এটি সম্ভাব্য অভিযানে সহায়তা ও মিত্রদের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
সূত্রদের মতে, চলতি মাসের শুরুতে ওমানি কূটনীতিকদের মাধ্যমে এবং ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল সম্ভাব্য হামলা ঠেকানো।
একটি সরাসরি বৈঠকের কথাও উঠেছিল, তবে তা বাস্তবায়িত হয়নি। সাম্প্রতিক সময়ে সরাসরি আলোচনা হয়নি বলেও জানা গেছে।
গত গ্রীষ্মে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে বলে ট্রাম্প দাবি করলেও, গোয়েন্দা সূত্র বলছে ইরান সেগুলো আরও গভীরে পুনর্নির্মাণ করছে। এছাড়া জাতিসংঘের পরিদর্শকদেরও প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন প্রশাসন আলোচনার জন্য কিছু শর্ত দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থায়ীভাবে বন্ধ করা, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিতে সীমা আরোপ এবং আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠীগুলোকে সমর্থন বন্ধ করা।
সবচেয়ে বড় বিরোধ দেখা দিয়েছে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা সীমিত করার বিষয়ে। ইরান এতে রাজি হয়নি এবং শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করতে চায়।
এক মার্কিন কর্মকর্তা সোমবার বলেন, ইরান শর্ত জানে। তারা চাইলে আমাদের সঙ্গে কথা বলতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক প্রস্তুতি বাড়াচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্যাট্রিয়ট ও থাড প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা পাঠানো হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বিমানবাহিনী সামরিক মহড়াও চালাতে যাচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি বুধবার এক্সে লিখেন, ইরানের বাহিনী যেকোনো আগ্রাসনের জবাব দিতে প্রস্তুত।
খামেনির উপদেষ্টা আলি শামখানি বলেন, হামলা হলে তা যুদ্ধের সূচনা হবে এবং তেল আবিবকে লক্ষ্য করা হবে।
মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক হামলা ও বিক্ষোভের কারণে ইরান সরকার ঐতিহাসিকভাবে দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি নতুন নেতৃত্ব চান।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খামেনিকে সরালেও সরকার পতন নিশ্চিত নয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেন, কেউ জানে না, ইরানে এরপর কে আসবে।
এক কর্মকর্তা বলেন, ট্রাম্প চান এমন শক্তিশালী হামলা, যাতে দ্রুত বিজয় ঘোষণা করা যায়।
ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে ভেনেজুয়েলার অভিযানের সঙ্গে তুলনা করেন। তবে কর্মকর্তারা বলেন, ইরানে অভিযান অনেক বেশি জটিল হবে।
কারণ ইরানের রয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান।
ভেনেজুয়েলার মতো সেখানে সরকার পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেই বলেও সূত্ররা জানান।
রুবিও বলেন, ইরান পরিস্থিতি অনেক বেশি জটিল।
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত তাদের আকাশসীমা ব্যবহার করতে দেবে না বলে জানিয়েছে।
তারা তেহরান ও ওয়াশিংটনকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।
বিশ্লেষক ত্রিতা পারসি বলেন, যেসব দেশ আকাশপথ দেবে, তারা ইরানের বৈধ লক্ষ্য হয়ে উঠবে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে লক্ষ্য করা বড় চ্যালেঞ্জ। জুনের সংঘাতের সময় ইসরায়েল তাকে খুঁজে পায়নি।
সূত্র: সিএনএন
এমএসএম