আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেছেন, জনগণের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার প্রতিশ্রুতির চেয়ে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও নিপীড়ন থেকে বাঁচার জন্য একটি নিরাপত্তা কার্ড এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে ফেনী সরকারি কলেজ মাঠে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মঞ্জু বলেন, ফেনী শুধু একটি জেলা নয়—এটি ভাষা আন্দোলনের শহীদ সালাম, আবরার ফাহাদ ও মহিপালের শহীদদের রক্তে রঞ্জিত গৌরবোজ্জ্বল জনপদ। এই ফেনীতেই আজ গণমানুষের মহাসমুদ্র জমায়েত হয়েছে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৬ বছর দেশে কথা বলার অধিকার ছিল না, নির্বাচন ছিল প্রহসন। দাঁড়িপাল্লা, ধানের শীষ কিংবা ঈগল মার্কার স্লোগান কোনো কিছুই জনগণ প্রকাশ্যে বলতে পারেনি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে ফেনীতে ধানের শীষের পক্ষে একটি মিছিল করতেও দেওয়া হয়নি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগের কথা তুলে ধরে মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ১৬ বছর কারাগারে বন্দি সন্তানের অপেক্ষায় থেকে আমার মা চোখের জল ফেলতে ফেলতে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা দেখেছি শিকল পরা অবস্থায় সন্তানের মায়ের জানাজায় অংশ নিতে। বিশ্বজিৎ, আবরার ফাহাদের মতো নিরীহ মানুষদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। শুধু দাড়ি থাকার অভিযোগে কাউকে হত্যা করা হয়েছে, এই ইতিহাস আমরা ভুলিনি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা, নৈতিকতা ও মানবিকতার চরম অবক্ষয়ের জন্য শেখ হাসিনাই দায়ী। অহংকার করে বলা হয়েছিল শেখ হাসিনা পালায় না। কিন্তু বাস্তবতা জনগণই দেখেছে।
বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নিয়ে কটাক্ষ করে মঞ্জু বলেন, ফ্যামিলি কার্ড দিয়ে কি চাঁদাবাজি বন্ধ হবে? সন্ত্রাস বন্ধ হবে? নারীদের হয়রানি, গুম, খুন বন্ধ হবে? আমরা ফ্যামিলি কার্ড চাই না, আমরা নিরাপত্তা কার্ড চাই। মানুষ যেন ঘুমাতে পারে, ব্যবসা করতে পারে, রাস্তায় চলতে পারে ভয় ছাড়া।
তিনি আরও বলেন, বয়স্ক ভাতা, নারী ও দরিদ্রদের সহায়তা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব, এটা কোনো রাজনৈতিক দয়া নয়। রাজনৈতিক দল যদি ঘোষণা দেয়, আমরা চাঁদাবাজি করবো না, দলীয়করণ করবো না, জুলুম করবো না, তাহলেই মানুষ স্বস্তি পাবে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মঞ্জু বলেন, রক্তের দাগ এখনো শুকায়নি। বিচার হয়নি, অথচ তাড়াহুড়া করে নির্বাচন চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আগে বিচার, সংস্কার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী নিশ্চয়তা দরকার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চিরদিনের জন্য ফ্যাসিবাদ প্রত্যাখ্যান করেছে। এখন দরকার মানবিক বাংলাদেশ, ন্যায়ের বাংলাদেশ—যেখানে মানুষ নিরাপত্তা নিয়ে বাঁচতে পারবে।
আরএএস/এমএমকে