আন্তর্জাতিক

পারমাণবিক হুমকি নেই, তবুও ইরানে হামলার পরিকল্পনা ট্রাম্পের

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি থেকে তাৎক্ষণিক কোনো হুমকি নেই বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা। হুমকি না থাকা সত্ত্বেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের কথা বিবেচনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

পত্রিকাটির এক বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলার ছয় মাস পরও ইরান উচ্চমাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ পুনরায় শুরু করেছে বা পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরির দিকে এগিয়েছে-এমন প্রমাণ খুবই কম। এতে নতুন করে দেওয়া হুমকির সময় ও উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গত জুনে ট্রাম্প ইরানকে সতর্ক করে বলেছিলেন, দেশটি যদি ‘শান্তিচুক্তি না করে’, তবে ভবিষ্যতের হামলা হবে আরও ভয়াবহ। চলতি সপ্তাহেও তিনি একই হুমকি পুনরাবৃত্তি করেন এবং তেহরানকে আবার আলোচনায় ফিরতে চাপ দেন।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, প্রেসিডেন্টের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন হয়নি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসে মদদদাতা রাষ্ট্র কখনোই পারমাণবিক অস্ত্রের মালিক হতে পারে না।

এই হুমকিকে জোরালো করতে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সমাবেশ গড়ে তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘আব্রাহাম লিংকন’ বিমানবাহী রণতরী, যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং কয়েক দশ হাজার মার্কিন সেনা। তবে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা ব্যক্তিগতভাবে স্বীকার করছেন, নতুন করে সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি কীভাবে এগোবে—তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের জুনে ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলা চালায়। এর পর যুক্তরাষ্ট্রও ১২ দিনের সংঘাতে অংশ নিয়ে ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা করে। ওই সংঘাতের পর থেকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

কেএম