বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতকে টেকসই ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে উদ্যোক্তা, ব্যবস্থাপক এবং তরুণ পেশাজীবীদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক দক্ষতা ও ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসিতে সমৃদ্ধ হওয়া একান্ত জরুরি বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের দাবি, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আর কেবল প্রযুক্তি খাতে সীমাবদ্ধ নেই; বরং আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা পরিচালনা, ঝুঁকি বিশ্লেষণ ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে এটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দিচ্ছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)-এর ‘এআই ফর ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তারা এসব কথা জানান।
বিসিআইয়ের সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজের সভাপতিত্বে ও বিসিআইয়ের সেক্রেটারি জেনারেল ড. মো. হেলাল উদ্দিনের পরিচালনায় কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নেটকম লার্নিং বাংলাদেশের সিনিয়র ম্যানেজার (বিজনেস ডেভেলপমেন্ট) মো. ইমদাদুল ইসলাম, সীমান্ত ব্যাংক পিএলসির এসএমই ব্যাংকিংয়ের সিনিয়র ম্যানেজার এবং হেড অব ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি উইং সঞ্জয় পাল। কর্মশালায় বিসিআইয়ের সদস্য ও বিভিন্ন শিল্প প্রতিষ্ঠান থেকে ২০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও বিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়টি বর্তমান সময়ের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ও সময়োপযোগী। চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের এই যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শুধু প্রযুক্তি খাতেই নয়, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা পরিচালনা এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসছে। বাংলাদেশের শিল্প ও ব্যবসা খাতকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে আমাদের উদ্যোক্তা, ব্যবস্থাপক এবং তরুণ পেশাজীবীদের ডিজিটাল আর্থিক জ্ঞান ও এআই ভিত্তিক দক্ষতায় সমৃদ্ধ হতে হবে।
তিনি বলেন, ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি এখন আর শুধু হিসাব জানা নয়, বরং নিরাপদ ডিজিটাল লেনদেন, ডেটা ট্রাকিং, ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং প্রযুক্তি ব্যবহার করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তোলা।
তিনি আরও বলেন, বিসিআই সবসময়ই শিল্পখাতের সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং প্রযুক্তি অভিযোজনের পক্ষে কাজ করে আসছে। এ ধরনের প্রশিক্ষণ কর্মশালা আমাদের সদস্য প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
ড. মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, বর্তমানে বিশ্বে ৬৩ শতাংশ প্রতিষ্ঠান এআই ফর ফাইন্যান্স এর ব্যবহার শুরু করেছে এবং আগামী ৩ বছরের মধ্যে তা ৮৪ শতাংশে দাঁড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এ সময় বিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি প্রীতি চক্রবর্তী উপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের স্বাগত জানান এবং নিজেদের আগামীর বিশ্বের জন্য প্রস্তুত করে তোলার জন্য আহ্বান জানান।
কর্মশালার দ্বিতীয় ভাগে ‘এআই ফর ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি’ বিষয়ে মো. ইমদাদুল ইসলাম ও সঞ্জয় পাল দুটি সেশনের মাধ্যমে তাদের বক্তব্য উপস্থাপন করেন এবং অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
প্রথম সেশনে আলোচক এআই কীভাবে প্রতিষ্ঠানের ফিন্যান্সিয়াল অপারেশনস-এ নির্ভুলভাবে কাজ করতে সহায়তা করে তা তুলে ধরেন এবং বাস্তবভিত্তিক উদাহরণ তুলে ধরেন। পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের প্রতিটি বিষয় সহজভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেন।
অপরদিকে দ্বিতীয় সেশনে আলোচক ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের ধারণা দেন। তিনি বলেন, বর্তমানে ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি আমাদের ব্যক্তিগত কাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং সব ব্যবসায়িক কার্যক্রমের জন্য নিজে জানা ও অন্যদের জানানো অত্যন্ত আবশ্যক।
আইএইচও/ইএ