সবুজ কারখানায় বিশ্বে বাংলাদেশ নিজেই নিজের রেকর্ড ভাঙছে। প্রতিনিয়ত গড়ছে নিত্য নতুন রেকর্ড। এটি দেশের পোশাক খাতের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তবে সবুজ কারখানাগুলো ক্রয়াদেশে অগ্রাধিকার পেলেও পণ্যের সঠিক মূল্য পাচ্ছে না। ক্রেতাদের এটি ভাবা উচিৎ। আর কারখানাগুলোর পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে গ্রিন টেকনোলজি ফান্ডের প্রাপ্যতা আরও সহজ করা উচিৎ।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে বিশ্বের শীর্ষ গ্রিন ফ্যাক্টরির স্বীকৃতি অর্জনের জন্য হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন। এই সম্মান অর্জন করায় শীর্ষ এই সবুজ কারখানাকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)।
অনুষ্ঠানে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুর রহমানের হাতে বিশেষ সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।
বিজিএমইএ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান বলেন, হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেড ইউএসজিবিসি লিড প্লাটিনাম সার্টিফিকেশনে ১১০ এর মধ্যে ১০৮ স্কোর করে একটি নতুন বিশ্ব রেকর্ড স্থাপন করেছে। এটি কেবল একটি সংখ্যার বিচার নয়, বরং এটি বর্তমানে বিশ্বের যে কোনো গ্রিন ফ্যাক্টরির মধ্যে সর্বোচ্চ স্কোর।
তিনি আরও বলেন, এই সাফল্য সারাবিশ্বের কাছে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডের মর্যাদা ও সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে এবং বাংলাদেশের পোশাক খাতের জন্য একটি ‘গ্লোবাল বেঞ্চমার্ক’ তৈরি করেছে।
স্বাগত বক্তব্যে বিজিএমইএ এর পরিচালক ফয়সাল সামাদ বলেন, ১১০ এর মধ্যে ১০৮ স্কোর করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জ, যা তারা সফলভাবে করেছে। কারখানার পরিবেশবান্ধব রূপান্তরে গ্রিন টেকনোলজি ফান্ডের প্রাপ্যতা আরও সহজতর করতে হবে।
বিজিএমইএ’র পরিচালক ফারুক হাসান বলেন, গত কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশ লিড সার্টিফিকেশনে সর্বোচ্চ স্কোর করে নিজের রেকর্ড নিজেই ভাঙছে। এটি শিল্পের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছে। তবে গ্রিন ফ্যাক্টরিগুলো কার্যাদেশে অগ্রাধিকার পেলেও পণ্যের মূল্যের সঠিক প্রতিফলন এখনও দেখা যাচ্ছে না।
অনুষ্ঠানে ইউএসজিবিসি এর কনসালটেন্ট ও ৩৬০ টিএসএল এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক অনন্ত আহমেদ এই অর্জনের কারিগরি দিকগুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ শুধুমাত্র যে সাসটেইনিবিলিটির পথে এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে তা নয়, বরং নতুন বৈশ্বিক বেঞ্চমার্ক তৈরি করছে।
হ্যামস গার্মেন্টস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে কারখানার সাকসেস স্টোরি তুলে ধরেন। তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, বিজিএমইএ’র বর্তমান পর্ষদ যেভাবে শিল্পের প্রতিটি অর্জনকে মূল্যায়ন করছে এবং বিশ্ব দরবারে তুলে ধরছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়।
তিনি আরও বলেন, বিজিএমইএ’র এই সংবর্ধনা দেওয়ার উদ্যোগ শিল্পমালিকদের টেকসই শিল্পায়নের পথে আরও সাহসী পদক্ষেপ নিতে উৎসাহিত করবে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক এ বি এম সামছুদ্দিন, ইনস্টিটিউশন অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারস অ্যান্ড টেকনোলজিস্টসের (আইটিইটি) ইনটেরিম কমিটির কনভেনর প্রকৌশলী এহসানুল করিম কায়সার এবং হ্যামস গার্মেন্টস এর পরিচালকগন ও উচ্চ পদস্ত কর্মকর্তারা।
জানা গেছে, বর্তমানে বাংলাদেশে ২৭৩টি লিড সার্টিফাইড গ্রিন ফ্যাক্টরি রয়েছে, যার মধ্যে ১১৫টি প্লাটিনাম এবং ১৩৯টি গোল্ড মানের। বিশ্বের শীর্ষ ১০০টি সর্বোচ্চ রেটিংপ্রাপ্ত গ্রিন কারখানার মধ্যে ৬৯টিই এখন বাংলাদেশে অবস্থিত।
ইএইচটি/এমআইএইচএস