আন্তর্জাতিক

পাকিস্তানে একযোগে ১২ জায়গায় বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলা কীসের ইঙ্গিত?

পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশে একযোগে অন্তত ১২ জায়গায় বিচ্ছিন্নতাবাদী হামলা হয়েছে। এ সময় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। নিহতদের মধ্যে অন্তত ৬৭ জন বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সদস্য বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।

জানা যায়, শনিবার (৩১ জানুয়ারি) ভোরে প্রাদেশিক রাজধানী কোয়েটায় একাধিক পুলিশ স্টেশনে হামলা চালায় সন্দেহভাজন জাতিগত বেলুচ বন্দুকধারীরা। স্থানীয় সময় ভোর ৩টার দিকে এই হামলা শুরু হয়। একই সময় বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় সমন্বিতভাবে হামলা চালানো হয় বলে জানায় নিরাপত্তা সূত্র।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৭ ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। গত ৪৮ ঘণ্টায় নিহতের মোট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০৮ জনে।

আরও পড়ুন>>পাকিস্তানে দফায় দফায় হামলা, ১০ নিরাপত্তাকর্মীসহ নিহত ৯৮পাকিস্তানে ‘সন্ত্রাসী হামলায়’ ১৮ সেনাসদস্য নিহতপাকিস্তানে আত্মঘাতী হামলায় নিহত ৫, ভারতকে দায়ী করলো সেনাবাহিনী

বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত বিএলএ এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি সামরিক স্থাপনা, পুলিশ এবং বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে বন্দুক হামলা ও আত্মঘাতী বিস্ফোরণ চালিয়েছে বলে দাবি করেছে।

বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানান, বেশিরভাগ হামলাই নিরাপত্তা বাহিনী ব্যর্থ করে দিয়েছে।

ভারতের বিরুদ্ধে মদতের অভিযোগ

অন্যদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নাকভি এক বিবৃতিতে হামলাকারীদের ‘ফিতনা আল-হিন্দুস্তান’ বলে উল্লেখ করেন। পাকিস্তান সরকার বেলুচিস্তানভিত্তিক বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোকে ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ নামে অভিহিত করে থাকে। ইসলামাবাদের দাবি, পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদ ও অস্থিতিশীলতা তৈরিতে ভারতের মদতে এসব গোষ্ঠী কাজ করে থাকে।

পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফও নিরাপত্তা বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। তিনি বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত আমাদের যুদ্ধ চলবে।’

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখন পর্যন্ত নয়াদিল্লির কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

হামলার সময় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যকে অপহরণ করা হয়েছে বলেও খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্টারনেট সেবা এবং ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। পুরো প্রদেশজুড়ে চলছে যৌথ নিরাপত্তা অভিযান।

এর একদিন আগে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছিল, বেলুচিস্তানে পৃথক দুটি অভিযানে ৪১ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে। বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রী সরফরাজ বুগতি বলেন, গত ১২ মাসে নিরাপত্তা বাহিনী ৭০০র বেশি সন্ত্রাসীকে হত্যা করেছে। শুধু গত দুইদিনেই প্রায় ৭০ জনকে নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে।

বেলুচিস্তানে বাড়ছে হামলা-সহিংসতা

খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ হলেও পাকিস্তানের সবচেয়ে দরিদ্র প্রদেশ বেলুচিস্তান। এটি দীর্ঘদিন ধরে পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এবং পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) তাদের হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে। টিটিপি আলাদা সংগঠন হলেও আফগানিস্তানের তালেবানের সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

গত বছর বেলুচ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা ৪৫০ যাত্রী বহনকারী একটি ট্রেনে হামলা চালায়। ওই ঘটনায় টানা দুইদিন অবরুদ্ধ অবস্থার মধ্যে বহু মানুষ নিহত হন। এছাড়া ২০২৪ সালের আগস্টে প্রদেশজুড়ে সেতু উড়িয়ে দেওয়া, হোটেলে হামলা এবং নিরাপত্তা স্থাপনায় আক্রমণের ঘটনায়ও বহু মানুষের প্রাণহানি হয়েছিল।

সূত্র: আল-জাজিরাকেএএ/