দেশজুড়ে

জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করে দেশকে দারিদ্র্যমুক্ত করা হবে

জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে জাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালুর মাধ্যমে দেশ থেকে দারিদ্র্য বিমোচন করা হবে। বেকারত্ব দূরিকরণে কেবল ভাতা না দিয়ে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। প্রয়োজনে করজে হাসানা (বিনা সুদে ঋণ) প্রদান করা হবে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় শহরের ডা. আবুল কাশেম ময়দানে ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনি সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেছে। এই দীর্ঘ সময়ে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি চারবার ও জাতীয় পার্টি দুইবার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু ৯০ শতাংশ মুসলমানের এই দেশে তারা পবিত্র কোরআনের কোনো আইন চালু করেনি। অথচ কোরআনে রাষ্ট্র ও সমাজ পরিচালনার জন্য দুই হাজার আয়াত রয়েছে, যেগুলোকে তারা কেবল মসজিদ ও মাদরাসায় সীমাবদ্ধ করে রেখেছে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতির সমালোচনা করে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা বলেন, দেশে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি আজ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই।

মদিনার ইসলামী রাষ্ট্রের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে এমনকি পশুর জীবনেরও মূল্য ছিল, আর বর্তমান বাংলাদেশে মানুষকে হত্যা করা হলেও বিচার পাওয়া যায় না।

সুরা হজ্জের ৪১ নম্বর আয়াতের উদ্ধৃতি দিয়ে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, যাদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা দেওয়া হবে, তাদের প্রথম কাজ হবে সালাত কায়েম করা ও যাকাতভিত্তিক অর্থনীতি চালু করা। সালাত মানুষের চরিত্র সংশোধন করে দুর্নীতি মুক্ত সমাজ গড়তে সহায়তা করে।

বক্তব্যে জামায়াতের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা ও নির্বাচনি ইশতেহারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে তিনি জানান, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে নারীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করা হবে। নারীরা পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য ৫ ঘণ্টা কাজ করবেন, কিন্তু ৮ ঘণ্টার সমান বেতন পাবেন। এছাড়া ৫ বছরের কম বয়সি শিশু ও ৬০ বছরের ঊর্ধ্ব বয়সের নাগরিকদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে। শিক্ষাব্যবস্থায় কোরআন শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা হবে। কারখানার মোট লাভের ১০ শতাংশ টাকা শ্রমিকদের মধ্যে বণ্টন করা বাধ্যতামূলক করা হবে।

একটি দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান উপস্থিত জনগণকে দাঁড়িপাল্লা মার্কায় ভোট দিয়ে ইসলামী রাষ্ট্র গঠনের আন্দোলনে শরিক হওয়ার আহ্বান জানান।

এসময় জেলা জামায়াতের আমির ও দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ডা. ফজলুর রহমান সাঈদের সভাপতিত্বে দলের সেক্রেটারি মাওলানা গোলাম কিবরিয়া মণ্ডল, সহকারী সেক্রেটারি ও জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী এসএম রাশেদুল ইসলাম, জেলা আইনজীবি সমিতির সভাপতি আব্দুল মোমিন ফকির, জেলা এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক গোলাম কবীর, জেলা এবি পার্টির সভাপতি সুলতান মো. শামসুজ্জামান, জেলা খেলায়েত মজলিসের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন, জেলা শিবিরের সভাপতি তারেক ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মাহফুজ রহমান/এমএন