মাওয়া ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীতে সাঁতার কাটতে গিয়ে মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) এক শিক্ষার্থী নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ আবু নাঈম এমআইএসটির নেভাল আর্কিটেকচার অ্যান্ড মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং (এনএএমই) বিভাগের লেভেল-২ এর শিক্ষার্থী।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, গত ৩১ জানুয়ারি এমআইএসটির ১৮ জন অসামরিক শিক্ষার্থী ভ্রমণের উদ্দেশ্যে মাওয়া ঘাট এলাকায় যান। বিকেল ৩টার দিকে তারা পদ্মা নদীতে নৌকা ভ্রমণে বের হন তারা। নৌকাটি ৪ নম্বর পিলারের কাছে একটি চরের কাছাকাছি পৌঁছালে চর থেকে আনুমানিক ৫০ মিটার দূরত্বে তিনজন শিক্ষার্থী সাঁতার কেটে চরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নদীতে নামেন।
সাঁতার কাটতে শুরু করার কিছু সময়ের মধ্যেই ওই তিন শিক্ষার্থী সাঁতার কাটতে অসুবিধায় পড়েন এবং সাহায্যের জন্য চিৎকার করতে থাকেন। এ সময় নৌকায় থাকা সাঁতার জানা দুই শিক্ষার্থী পানিতে নেমে দুজনকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে তৃতীয় শিক্ষার্থী আবু নাঈমকে উদ্ধারের আগেই তিনি পানিতে তলিয়ে যান।
আরও পড়ুনপদ্মা নদীতে গোসলে নেমে এমআইএসটির শিক্ষার্থী নিখোঁজ
আইএসপিআর আরও জানায়, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে সেনাবাহিনী ও নৌবাহিনীর প্রধান, বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে অবহিত করেন। একই সঙ্গে এনএএমই বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ও কো-অর্ডিনেটরকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। প্রাথমিকভাবে ১৫ আরই ব্যাটালিয়নের একটি স্পিড বোট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। পরে স্থানীয়ভাবে মোতায়েনকৃত ৯ পদাতিক ডিভিশনের ১৯ বীর ইউনিট উদ্ধার কাজে যোগ দেয়।
এছাড়া বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ৭ সদস্যের একটি দল (এর মধ্যে ৫ জন ডুবুরি), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ২০ সদস্যের একটি দল (৫ জন ডুবুরি) এবং নৌ পুলিশের ৫ সদস্যের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। পরে ঢাকা থেকে নৌবাহিনীর ৮ সদস্যের একটি ডুবুরি দল রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটে ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযানে অংশ নেয়।
উদ্ধারকারী দলগুলো শনিবার দিবাগত রাত আড়াইটা পর্যন্ত উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করে। আজ রোববার সকাল ৮টা থেকে পুনরায় উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট আজ রোববার সকালে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে নিখোঁজ শিক্ষার্থীর বাবা ও উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন। পাশাপাশি ১৯ বীর ইউনিটের সহায়তায় স্থানীয় আরও ৪ ডুবুরিকে উদ্ধার কাজে যুক্ত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অবহিত করা হয়েছে। তারা নৌ পুলিশকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
বর্তমানে মোট ২৪ জন ডুবুরির সহায়তায় উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো নিখোঁজ শিক্ষার্থী আবু নাঈমের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
টিটি/ইএ