ডায়াবেটিস হলেই অনেকের প্রথম প্রশ্ন - তাহলে কি ভাত একেবারে বাদ? বাস্তবতা হলো, ভাত খাওয়া আর ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ - এই দুটো বিষয় একে অপরের শত্রু নয়। সমস্যা ভাত নয়, সমস্যা হলো পরিমাণ, ধরন এবং খাওয়ার পদ্ধতি।
ভাত মূলত কার্বোহাইড্রেটের উৎস, যা শরীরে গিয়ে গ্লুকোজে পরিণত হয়। তাই একবারে বেশি ভাত খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়তে পারে। কিন্তু সঠিক পরিমাণে এবং সঠিকভাবে ভাত খেলে ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
১. চালের ধরনতবে সব ভাত এক রকম নয়। সাদা চালের ভাত দ্রুত হজম হয়, ফলে রক্তে শর্করা দ্রুত বাড়ে। অন্যদিকে লাল চাল বা ব্রাউন রাইস ও আংশিক সিদ্ধ চালের ভাতে আঁশ বেশি থাকে। এই আঁশ রক্তে শর্করা ধীরে বাড়াতে সাহায্য করে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য চালের ধরন নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ।
২. ভাতের পরিমাণপরিমাণের বিষয়টি আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। থালার অর্ধেক ভাত না ভরে, অল্প পরিমাণ ভাতের সঙ্গে বেশি শাকসবজি, ডাল বা প্রোটিন (মাছ, ডিম, মুরগি) রাখলে রক্তে শর্করার ওঠানামা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে থাকে। একে বলা হয় ব্যালান্সড প্লেট পদ্ধতি।
কখন ভাত খাচ্ছেন, সেটাও প্রভাব ফেলে। রাতে বেশি ভাত খেলে অনেকের ক্ষেত্রে ব্লাড সুগার বাড়ে। দিনের বেলায়, বিশেষ করে দুপুরে, শরীর কার্বোহাইড্রেট তুলনামূলক ভালোভাবে ব্যবহার করতে পারে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো - ভাত খাওয়ার পর শারীরিক নড়াচড়া। ভাত খেয়ে একেবারে বসে না থেকে হালকা হাঁটাহাঁটি করলে গ্লুকোজ কোষে প্রবেশ করতে সাহায্য করে, ফলে রক্তে শর্করা কম বাড়ে।
অর্থাৎ ডায়াবেটিস মানেই ভাত নিষেধ - এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। সচেতন নির্বাচন, পরিমিত পরিমাণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখতে পারলে ভাত খেয়েও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ সম্ভব।
সূত্র: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, আমেরিকান ডায়াবেটিস অ্যাসোসিয়েশন, হার্ভার্ড টি.এইচ. চ্যান স্কুল অব পাবলিক হেলথ
এএমপি/জেআইএম