অর্থনীতি

চট্টগ্রাম বন্দরের অচলাবস্থা নিরসনে সরকারের হস্তক্ষেপ চায় বিজিএমইএ

চট্টগ্রাম বন্দরের চলমান অচলাবস্থায় দেশের রপ্তানিনির্ভর শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। এ পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক করতে সরকারের কার্যকর হস্তক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে গ্রহণযোগ্য সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।

সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) নৌ পরিবহন উপদেষ্টার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ দাবি জানান বিজিএমইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান।

সেলিম রহমান বলেন, দেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে চট্টগ্রাম বন্দরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের কাঁচামাল আমদানি ও প্রস্তুত পণ্য রপ্তানি সরাসরি এ বন্দরের ওপর নির্ভরশীল। বন্দরের কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন উৎপাদন চেইন ব্যাহত করে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে রপ্তানি আয় ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, নিউ মুরিং কনটেইনার টার্মিনাল একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট শ্রমিক অসন্তোষ ও কর্মবিরতির ফলে বন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে বন্দরে কনটেইনার জট, জাহাজ থেকে পণ্য খালাসে বিলম্ব এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।

বিজিএমইএ জানায়, তৈরি পোশাক শিল্প একটি সময়সংবেদনশীল খাত, যেখানে নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে পণ্য রপ্তানি করা অত্যাবশ্যক। বন্দরে দীর্ঘসূত্রতার কারণে পণ্য চালানে বিলম্ব ঘটছে, যা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। এতে একদিকে রপ্তানিকারকরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন, অন্যদিকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংগঠনটির মতে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে চলমান অবরোধ ও অপারেশনাল জটিলতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। এ অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে রপ্তানি আদেশ বাতিলের ঝুঁকি বাড়বে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।

এমতাবস্থায় দেশের সর্ববৃহৎ সমুদ্র বন্দরের মাধ্যমে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের স্বাভাবিক গতি বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে চলমান সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমইএ। সংগঠনটি আশা প্রকাশ করেছে, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে এবং রপ্তানিনির্ভর শিল্পের আস্থা ও সক্ষমতা বজায় থাকবে।

এমএএইচ/