এমিরেটস স্টেডিয়ামে নাটকীয় এক জয়ে ছয় বছর পর প্রথম কোনো বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠল আর্সেনাল। মঙ্গলবার রাতে কারাবাও কাপের সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে চেলসিকে ১–০ গোলে হারিয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৪–২ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনাল নিশ্চিত করে মিকেল আর্তেতার দল।
ম্যাচের একেবারে শেষ সময়ে, দ্বিতীয়ার্ধের স্টপেজ টাইমে, সাবেক ক্লাব চেলসির বিপক্ষে জয়সূচক গোলটি করেন জার্মান তারকা কাই হাভার্টজ। ডেকলান রাইসের পাস পেয়ে চেলসি গোলকিপার রবার্ট সানচেজকে ফাঁকি দিয়ে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে পাঠান তিনি। সেই গোলেই ওয়েম্বলির টিকিট নিশ্চিত হয় আর্সেনালের।
প্রথম লেগে ঘরের মাঠে হারার পর এদিন চেলসি শুরু থেকেই সতর্ক কৌশলে খেলে। লিয়াম রোজেনিয়রের দল পাঁচজন ডিফেন্ডার নিয়ে আর্সেনালের আক্রমণ ঠেকাতে মনোযোগী ছিল এবং ম্যাচের বড় অংশে সফলও হয়। সুযোগ খুব বেশি তৈরি করতে না পারলেও দুই লেগের ব্যবধান কমাতে প্রয়োজনীয় গোলটি আদায় করতে পারেনি লন্ডনের ব্লুজরা।
প্রথমার্ধে ম্যাচ ছিল বেশ নিরুত্তাপ। আর্সেনালের হয়ে ১৮ মিনিটে পিয়েরো হিনকাপিয়ের দূরপাল্লার শটটি ভালোভাবে ঠেকান সানচেজ— এটাই ছিল স্বাগতিকদের একমাত্র উল্লেখযোগ্য সুযোগ। সেট-পিসে আর্সেনালের শক্তি পরিচিত হলেও, কর্নারে চেলসির তিনজন করে খেলোয়াড় সামনে তুলে আনা সেই অস্ত্রকে অনেকটাই ভোঁতা করে দেয়।
বিরতির ঠিক আগে এনজো ফার্নান্দেজের দূরপাল্লার শট পাঞ্চ করে সরিয়ে দেন সাবেক চেলসি গোলকিপার কেপা আরিজাবালাগা।
দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ বেশির ভাগ সময় আর্সেনালের হাতেই থাকলেও এক গোলের ব্যবধান থাকায় উত্তেজনা শেষ পর্যন্ত বজায় থাকে। ঘণ্টা পার হওয়ার পর কোল পালমার ও এস্তেভাওকে নামান রোজেনিয়র। এরপর চুচুরেলা ও ফার্নান্দেজ দূর থেকে চেষ্টা করেন, তবে সফল হননি।
ম্যাচ যত এগোতে থাকে, আর্সেনালের মধ্যেও কিছুটা নার্ভাসনেস দেখা যায়। ডেকলান রাইস সতীর্থদের শান্ত থাকতে ইঙ্গিত দেন। ৭৬ মিনিটে মার্টিন জুবিমেন্দির ক্রস থেকে গ্যাব্রিয়েলের হেড চুচুরেয়া ঝুঁকিমুক্ত করেন।
অন্য প্রান্তে কর্নার থেকে ওয়েসলি ফোফানার ফ্লিক অল্পের জন্য পোস্টের পাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। যোগ করা সময়ের আগে ফার্নান্দেজের শটও লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
চেলসি চাপ দিলেও অতিরিক্ত সময় বাধ্য করার মতো গোলের জন্য তারা কখনোই খুব কাছাকাছি ছিল না। আর সেই সুযোগেরই সদ্ব্যবহার করেন হাভার্টজ— শেষ মুহূর্তে গোল করে ম্যাচ ও টাই দুটোরই ফয়সালা করে দেন।
আগামী ২২ মার্চ কারাবাও কাপের ফাইনালে আর্সেনাল খেলবে ম্যানচেস্টার সিটি ও নিউক্যাসল ইউনাইটেডের সেমিফাইনালের বিজয়ীর বিপক্ষে। প্রথম লেগে ২–০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে ম্যানচেস্টার সিটি।
এর আগে ১৯৮৭ ও ১৯৯৩ সালে লিগ কাপ জিতেছিল আর্সেনাল। ছয়বার রানার্সআপ হওয়া ক্লাবটি সর্বশেষ ২০১৮ সালে সিটির কাছেই হেরে দ্বিতীয় হয়েছিল। ২০২০ সালে এফএ কাপ জয়ের পর আর কোনো বড় শিরোপা জেতেনি তারা।
তবে চলতি মৌসুমে আর্তেতার দল দুর্দান্ত ছন্দে— প্রিমিয়ার লিগে ছয় পয়েন্ট এগিয়ে শীর্ষে, চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা আট জয়ে শীর্ষে থেকে গ্রুপ পর্ব শেষ, আর এফএ কাপেও উঠে গেছে চতুর্থ রাউন্ডে। সব মিলিয়ে হাভার্টজের সেই শেষ মুহূর্তের গোল যেন আর্সেনালের স্বপ্নময় মৌসুমে আরেকটি বড় মাইলফলক হয়ে রইল।
আইএইচএস/