অভিনয়ের পাশাপাশি ঘুরতে ভালোবাসেন প্রিয়ন্তী উর্বী। কাজের ফাঁকে সময় বের করে চলে যান নিজের অদেখা নতুন গন্তব্যে। সম্প্রতি তিনি ঘুরে এলেন ফিলিপাইন থেকে। সেই ভ্রমণের অভিজ্ঞতা, ঈদের নাটক, সিনেমা নিয়ে ভাবনা এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গন নিয়ে প্রত্যাশার কথা জানালেন জাগো নিউজকে।
জাগো নিউজ: ফিলিপাইনে গিয়েছিলেন কেন, শুটিং নাকি বেড়ানো? প্রিয়ন্তী উর্বী: ঘুরাঘুরি করতে। আমার কাছে দেশটাকে মনে হয়েছে আরেকটা বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ এবং সংস্কৃতি প্রায় একই রকম। শুধু ধর্ম ভিন্ন। আমি তো ঘোরাঘুরি করতে খুব ভালোবাসি, যথেষ্ট টাকা-পয়সা থাকলে ঘোরাঘুরি করেই জীবন কাটিয়ে দিতাম।
পৃথিবীটা ঘুরে দেখতে চান প্রিয়ন্তী। ছবি: ফেসবুক থেকে
জাগো নিউজ: কী করছেন এখন? নতুন কোনো কাজ চলছে?প্রিয়ন্তী উর্বী: বেশ কিছু নাটকে কাজ করছি। সেগুলো ঈদুল ফিতরে দেখানো হবে। বেশিরভাগ নাটকের নামই এখনও ঠিক হয়নি। দেখলাম, দেশের পরিস্থিতির কারণে বিগত বছরের তুলনায় এ বছর ঈদে কাজের সংখ্যা কিছুটা কম। নির্বাচনের পর কাজের গতি হয়তো বাড়বে।
জাগো নিউজ: আপনাকে আবার সিনেমায় দেখা যাবে কবে? প্রিয়ন্তী উর্বী: ‘নীলচক্র’ সিনেমার পর আমার কাছে অনেক সিনেমার অফার এসেছে। কিন্তু কোনো চরিত্র বা গল্প সেভাবে আমাকে আকর্ষণ করেনি। নাটকের ক্ষেত্রে ছোটখাটো ত্রুটি মেনে নেওয়া গেলেও, সিনেমার ক্ষেত্রে কোনো আপোষ করতে রাজি না। দরকার হলে জীবনে একটিই সিনেমা করবো অথবা করবই না। তবু শুধু ‘করার জন্য’ কোনো ছবিতে অভিনয় করব না। আমি আসলে চরিত্রটা বেছে নিতে চাই।
ঈদুল ফিতরে বেশ কয়েকটি নাটকে দেখা যাবে প্রিয়ন্তীকে। ছবি: ফেসবুক থেকে
জাগো নিউজ: কদিন বাদেই নির্বাচন। নতুন সরকারের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী? প্রিয়ন্তী উর্বী: সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যাতে বিনিয়োগ বাড়ে, সেই পরিবেশ তৈরি করবে নতুন সরকার, এটাই আমার প্রত্যাশা। পর্যাপ্ত অর্থ থাকলে কাজের মান এমনিতেই উন্নত হয়। আজ থেকে ৫০ বছর পর যখন দেশ আরও উন্নত হবে, তখন যেন মানুষ পেছনের কাজগুলো দেখে মুগ্ধ হয়। আমাদের আর্কাইভ যেন সমৃদ্ধ থাকে। কাজগুলো যেন এমন হয় যে, মানুষ তার ‘লুক অ্যান্ড ফিল’ দেখে অবাক হয়ে যায়।
জাগো নিউজ: শুধু বিনিয়োগ বাড়ালেই আপনি সন্তুষ্ট?প্রিয়ন্তী উর্বী: না, তা নয়। অনেক টাকা বিনিয়োগ করলেই সিনেমা ভালো হয় না। শিক্ষিত পরিচালক এবং ভালো দেখে বিনিয়োগ করতে হবে। যদি পরিচালকের ডিরেকশনের দক্ষতা না থাকে, তবে সেখানে বিনিয়োগ করে তো লাভ নেই। বিনিয়োগ এমন পরিচালকের পেছনে করা উচিত, যার কাজে ভরসা করা যায়, সে হোক নতুন বা পুরোনো। সুন্দর গল্প এবং দক্ষ নির্মাতার সমন্বয়ে বিনিয়োগ হলে সেই প্রজেক্ট মানুষ পছন্দ করবেই।
ক্যানভাস ম্যাগাজিনের মডেল হয়েছেন প্রিয়ন্তী। ছবি: প্রিয়ন্তীর ফেসবুক থেকে
জাগো নিউজ: অনেকে বলেন ওটিটিতে ‘সিন্ডিকেট’ ছাড়া কাজ পাওয়া যায় না? আপনি কী বুঝলেন? প্রিয়ন্তী উর্বী: কাজ মূলত প্রজেক্ট অনুযায়ী ভিন্ন হয়। তথাকথিত ‘সিন্ডিকেট’ শব্দটির চেয়ে ব্যক্তিগত সুসম্পর্ক বা ঘনিষ্ঠতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। ঘনিষ্ঠ কোনো বন্ধুর সঙ্গে কাজ করতে চাওয়া বা পরিচিত কাউকে (যেমন মীর রাব্বি বা আরশ) কাস্টিংয়ে প্রাধান্য দেওয়াটা খুব স্বাভাবিক বিষয়। একজন নতুন, দক্ষ অভিনেতা থাকলেও পরিচিত ও ভরসাযোগ্য সহকর্মীদের সঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেওয়াটা পেশাদারী ক্ষেত্রে অনেক সময় অগ্রাধিকার পায়।
জাগো নিউজ: ওটিটির কনটেন্ট দেখেন? এর ব্যবহারজনিত জটিলতা টের পেয়েছেন? অনেকে বলছেন, এত ঝামেলার চেয়ে ফ্রি ইউটিউব ভালো। আপনি মনে করেন?প্রিয়ন্তী উর্বী: এখানে মূল বিষয়টি হচ্ছে ফ্রি বনাম পেইড কনটেন্ট। ইউটিউবের নাটক বা কনটেন্ট মানুষ বিনামূল্যে দেখতে পারে, শুধু ইন্টারনেট থাকলেই হয়। কিন্তু ওটিটি প্ল্যাটফর্মে কনটেন্ট দেখার জন্য টাকা দিয়ে সাবস্ক্রিপশন নিতে হয়। বাংলাদেশের প্রায় ২০ কোটি মানুষের মধ্যে এখনও বড় একটি অংশ জানেই না কীভাবে ওটিটি সাবস্ক্রাইব করতে হয়। বিশেষ করে, ঢাকার বাইরের দর্শকদের জন্য ইন্টারনেট নেটওয়ার্কের সীমাবদ্ধতা ও পেমেন্ট পদ্ধতির জটিলতার কারণে ওটিটি ব্যবহার অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।
এমআই/আরএমডি