শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার তদন্তে রাষ্ট্রীয় গড়িমসি ও অসহযোগিতার অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জাতিসংঘে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছেন সংগঠনটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিন প্রাঙ্গণে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের মতো শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার শুনানি বারবার পেছানো হচ্ছে। আমরা স্পষ্টভাবে জানতে চাই, আর কতদিনে এই মামলার তদন্ত শেষ হবে?
তিনি অভিযোগ করেন, মামলার বাদী হওয়া সত্ত্বেও তাকে তদন্তের কোনো অগ্রগতি জানানো হচ্ছে না। এমনকি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হচ্ছে এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তার স্বাক্ষর নকল হওয়ার আশঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি। এ অবস্থায় তদন্তে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করা হলে ভবিষ্যতে কোনো নথিতে স্বাক্ষর না করার কথাও জানান।
আব্দুল্লাহ আল জাবের আরও বলেন, শহীদ ওসমান হাদিকে গুলি করার ৫৩ দিন পার হলেও এখনো প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করা হয়নি। বরং তদন্ত প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়েই হত্যাকারীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের অধীনে আন্তর্জাতিক তদন্তের নজির টেনে তিনি বলেন, লেবাননের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রফিক হারিরি হত্যার মতো ঘটনাও জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে তদন্তের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত হয়েছিল।
সংবাদ সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ না পাওয়ার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব। তিনি বলেন, গত চারদিন ধরে সব ধরনের চেষ্টা করেও ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে দেখা করা সম্ভব হয়নি। ড. ইউনূস যদি সত্যিই জনগণের সরকার হন, তাহলে শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে এত প্রতিবন্ধকতা কেন?
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ আল জাবের বলেন, শুধু সিসি ক্যামেরা বসালেই সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হবে না। ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৪৫ হাজার ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বডি ক্যামেরার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলই ভারতীয় আধিপত্য, পররাষ্ট্রনীতি কিংবা প্রতিরক্ষা নীতি নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান জানাচ্ছে না। যারা এসব বিষয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান দিতে পারবে, জনগণকে তাদের পক্ষে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করা হবে বলে জানান তিনি।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে এবং সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যাহত হলে এর দায় নির্বাচনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোকেই নিতে হবে।
এফএআর/ইএ