চট্টগ্রাম বন্দরে আসা নৌ পরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেনকে আটকে বন্দর চেয়ারম্যানের অপসারণ চাইলেন আন্দোলনরত শ্রমিক নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বেলা পৌনে ১১টায় নগরীর কাস্টমস হাউজ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এসময় গাড়ি থেকে নেমে শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলেন উপদেষ্টা।
এসময় উপস্থিত অন্য শ্রমিকরা ‘ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেবো না, ডিপো ওয়ার্ল্ডকে দেবো না’ স্লোগান দেয়। শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে কথা বলে উপদেষ্টা গাড়ি উঠলে, শ্রমিকরা আবার ভুয়া ভুয়া স্লোগান দেওয়া শুরু করলে উত্তেজনা তৈরি। এসময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা।
এসময় বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক শ্রমিকদল নেতা মো. ইব্রাহিম খোকন উপদেষ্টাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘বন্দরকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে উত্তেজনা আছে স্যার। প্রত্যুত্তরে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমিতো দেশ ছেড়ে যাইনি। আপনারা নেতারা ১২টার সময় আমার সঙ্গে দেখা করেন। আমি কথা বলবো, আপনারা কথা বলবেন, ভদ্রভাবে। আমি গত দেড় বছর মানুষের জন্য কাজ করেছি। আমি সপ্তাহান্তে আমার বাড়িতে ছিলাম না। আপনাদের কথাও আমি শুনবো, আমার কথাও আপনাদের শুনতে হবে। তারপরে যেটা হবে, সেটা হবে। আমার হাতে দেশের ক্ষতি হোক, তা চাই না।’
এসময় শ্রমিকদল নেতা খোকন বলেন, ‘আমার একটা আপত্তি আছে স্যার। আমরা চট্টগ্রাম বন্দরকে ওন করি। আমার চাকরি ৩২ বছর। এ চট্টগ্রাম বন্দরে আমি শুধু নয়, কোনো মাফিয়া যাতে চট্টগ্রাম বন্দরে না থাকে। এটা আমার প্রত্যাশা।”
উপদেষ্টা বলেন, ‘আমিও চাই না। তখন খোকন বলেন, স্যার এ বন্দর চেয়ারম্যান গত দেড় বছরে আমাদের বিরুদ্ধে এমন কোনো হীন কাজ নেই, যা করেননি। আমরা এমন কোনো অন্যায় করিনি, উনি (চেয়ারম্যান) এমন পদক্ষেপ নিতে পারেন না। কথাও বলতে দেয় না। আমাদের সংগঠনের একটি পোষ্টারও লাগাতে দেয় না। উনার সঙ্গে দেখা করতে গেলে দেখা করে না স্যার। তাকে অপসারণ করতে হবে স্যার।’
এসময় উপদেষ্টা বলেন, ‘এখানে না দাঁড়িয়ে ১২টার সময় আপনারা আসেন। আমি চেয়ারম্যানকে আনবো না। আমি একা আসবো, আপনাদের সঙ্গে কথা বলবো।’
এদিকে, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি ঘোষণা করেছে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ।
সপ্তাহের শুরুতে শনিবার থেকে জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদলের ব্যানারে ৮ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করলেও সোমবার থেকে বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টা এবং মঙ্গলবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির কর্মসূচি আসে। এতে বন্দর থেকে আমদানি পণ্যের ডেলিভারি, কনটেইনার হ্যান্ডলিং এবং বন্দরের ভেতরে পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বন্দরে কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। বন্দরে জাহাজ বার্থিং করতে পারেনি। পাশাপাশি বহির্নোঙরেও বড় জাহাজ থেকে পণ্য খালাস ব্যাহত হচ্ছে।
এর আগে আন্দোলন চলাকালীন সময়ে বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীরসহ আন্দোলনে জড়িত অন্তত ১৬ জন কর্মচারীকে প্রথমে ঢাকার পানগাঁও আইসিটি ও কমলাপুর আইসিডিতে পরে মন্ত্রণালয় তাদের মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করেছে। যদিও তারা কর্মস্থলে যোগ দেননি।
এমডিআইএইচ/এমএএইচ/