জাতীয়

ভোটের দিন রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বের হতে পারবে না: ইসি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে কক্সবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বার্থান্বেষী মহল রোহিঙ্গাদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহার করতে পারে বলে আশঙ্কা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই ঝুঁকি মোকাবিলায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নিরাপত্তা জোরদারসহ একগুচ্ছ কঠোর নির্দেশনা জারি করেছে সংস্থাটি। নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন রোহিঙ্গারা ক্যাম্প থেকে বের হতে পারবে না বলে ইসির নির্দেশনায় জানানো হয়েছে।

নির্বাচনের সময় ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বহির্গমন সম্পূর্ণ স্থগিত রাখার পাশাপাশি চেকপোস্টগুলোতে শতভাগ পরিচয় যাচাই ও তল্লাশি জোরদার করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ইসির সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ইসির চিঠিতে বলা হয়, উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতির তথ্য পাওয়া গেছে। নির্বাচনের সময় কোনো পক্ষ যাতে রোহিঙ্গাদের ভোটকেন্দ্রে লোকবল হিসেবে ব্যবহার, জাল ভোট প্রদান বা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দমনে ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য এই আগাম সতর্কতা দিয়েছে সংস্থাটি।

রোহিঙ্গাদের নিয়ে ইসির চিহ্নিত ঝুঁকিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এমপি প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় রোহিঙ্গাদের ব্যবহার, টাকার বিনিময়ে জাল ভোট প্রদান ও ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা, সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপগুলোর (RCPR, Ro-FDMN RC) মাধ্যমে উস্কানিমূলক বার্তা প্রচার এবং আরসা (ARSA), আরএসও (RSO) বা আরাকান আর্মির মতো গ্রুপগুলোর মাধ্যমে সীমান্ত এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইসি ও স্থানীয় প্রশাসন সমন্বিতভাবে বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। চলাচলে নিষেধাজ্ঞা: নির্বাচনের আগে ও ভোটের দিন ক্যাম্প থেকে বের হওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। ক্যাম্পের ভেতরে সিএনজি, অটো ও মোটরবাইকসহ সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। বাজার ও এনজিও নিয়ন্ত্রণ: অতিরিক্ত জনসমাগম এড়াতে ক্যাম্পসংলগ্ন বড় বাজারগুলো (বালুখালী, লেদা, নয়াপাড়া) সাময়িক বন্ধ থাকবে। এছাড়া এনজিও কর্মীদের ক্যাম্প পরিদর্শন সীমিত করা হবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ: ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সব ধরনের সভা-সমাবেশ এবং সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মের কার্যক্রম স্থগিত থাকবে। মসজিদের ইমাম ও মাঝিদের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচারণা চালানো হবে। যৌথ অভিযান ও মোবাইল কোর্ট: অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ছাড়া তাৎক্ষণিক বিচার নিশ্চিতে ক্যাম্পে পর্যাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও মোবাইল কোর্ট মোতায়েন থাকবেন।

২০১৭ সাল থেকে ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে অবস্থান করছে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৩৯ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এসএম/এমএমকে