অমর একুশে বইমেলায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন ও কর্ম নিয়ে লেখা বইয়ের উপস্থিতি থাকতো চোখে পড়ার মতো। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পট-পরিবর্তনের পর পাল্টে গেছে চিত্র।
এবার বইমেলায় শেখ মুজিবুর রহমানের লেখা অথবা তাকে নিয়ে লেখা বই থাকবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। তবে সেই প্রশ্নে সরাসরি ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ উত্তর দেননি বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম। কৌশলে প্রশ্নের সরাসরি উত্তর এড়িয়ে বরং ‘বাস্তবতা’ বুঝিয়েছেন তিনি।
আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হচ্ছে এবারের অমর একুশে বইমেলা। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন আয়োজকরা। এতে মেলার প্রস্তুতি, প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বাংলা একাডেমি ও মেলা আয়োজক কমিটির অবস্থান তুলে ধরেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম ও অমর একুশে বইমেলার সদস্যসচিব ড. মো. সেলিম রেজা।
প্রশ্নোত্তর পর্বে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন যে, এবার বইমেলায় বঙ্গবন্ধুর কোনো বই থাকবে কি না বা রাখার সুযোগ দেওয়া হবে কি না? উত্তরে মহাপরিচালক মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘এ বই থাকা বা না থাকার দায়িত্ব নির্ধারণ করার দায়িত্ব বাংলা একাডেমির নয়ে। আপনারা জানেন যে, বাংলা একাডেমি কেবল কোনো ধরনের স্পর্শকাতরতা তৈরি হলে সে বিষয়ে ডিল (মধ্যস্থতা) করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘সমস্ত বইয়ের মান পরীক্ষা করে মেলায় প্রবেশাধিকার দেওয়ার এখতিয়ার (অনেক সময় কেউ কেউ এটা বলে থাকেন আর কি) থেকেও থাকে, তাহলেও সেটি বাস্তবসম্মত নয়। কিন্তু বাস্তবে বাংলা একাডেমি কোনো কর্তৃপক্ষ নয়; এটা নম্বর ওয়ান (প্রথম বিষয়)। আর নম্বর টু (দ্বিতীয়ত) কাজের দিক থেকেও সেটা অসম্ভব। সুতরাং আমি একটা বইয়ের কনটেন্ট পরীক্ষা করে তারপর প্রকাশের এবং মেলায় প্রবেশের অনুমতি দিলাম, বিক্রি হলো; এটা সম্ভব নয়।’
এ ধরনের প্রশ্ন মেলা চলাকালে করার অনুরোধ জানিয়ে মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘দেখুন, কতগুলো ব্যাপার আছে; যেগুলো মেলা চলাকালীন আপনারা জিজ্ঞেস করার অবকাশ পাবেন, সেগুলো এখন যদি বাদ রাখেন, তাহলে বোধহয় সবার জন্যই সুবিধা হয়।’
এদিকে প্রকাশকদের আপত্তি সত্ত্বেও পূর্বনির্ধারিত ২০ ফেব্রুয়ারি থেকেই অমর একুশে বইমেলা শুরু হবে। বইমেলা পেছানোর কোনো সিদ্ধান্ত আপাতত নেই বলে জানিয়েছে বাংলা একাডেমি। একই সঙ্গে পবিত্র রমজান মাসে মেলা আয়োজন করায় মেলা প্রাঙ্গণে ইফতার, নামাজ ও তারাবিহর জন্য বড় পরিসরে ব্যবস্থা রাখা হবে।
এএএইচ/এমআইএইচএস