টিকটক, ইউটিউব বা শর্ট ভিডিও অ্যালগরিদম আমাদের প্রতিদিন এমনভাবে আটকে ফেলতে সক্ষম যে, আপনি ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনটা রাখার কথা ভাবতে থাকবেন, কিন্তু পেরে উঠবেন না।
অনেকে অপেক্ষা করার সময় একঘেয়েমি থেকে বাঁচতে, কেউ বিশ্রামের অংশ হিসাবে, কেউ আবার সময় পার করতে ভিডিং স্ক্রলিংকেই সমাধান ভেবে নেন। অনেকেই মনে করেন ভিডিও বদলালে বা সামনে পিছনে স্কিপ করলে বোরডম কমে যাবে। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে – এই বিষয়গুলো আমাদের বোরডোম বা একঘেয়েমিকে বাঁড়িয়ে দেয়।
স্ক্রলিং আর বোরডমের সম্পর্ক কী?
টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ড. ক্যাটি ট্যাম এবং তার সহকর্মীরা এই বিষয়ে সাতটি পৃথক পরীক্ষা করেন, যেখানে মোট ১,২০০’র বেশি মানুষ অংশ নেন। তাদের লক্ষ্য ছিল - ভিডিওর বিভিন্ন ক্লিপ দ্রুত স্ক্রল করলে বোরডমের অনুভূতি কি কমে, নাকি বাড়ে – সেটা পর্যবেক্ষণ করা। গবেষণায় দেখা গেছে, যখন কেউ একটি দীর্ঘ ভিডিও (১০ মিনিট) সম্পূর্ণটা দেখে, তখন তারা একটি অর্থপূর্ণ অভিজ্ঞতা পাওয়ার অনুভূতি পান ও মনোযোগ ধরে রাখাও সহজ হয়।
অন্যদিকে, যারা বিভিন্ন ৫ মিনিটের ভিডিও বা স্কিপ-ফরওয়ার্ড/ব্যাকওয়ার্ড করে দেখেন, তারা নিজেকে আরও বোরড, কম সন্তুষ্ট ও হতাশ অনুভব করেন। এই আচরণ মূলত ডিজিটাল সুইচিং নামে পরিচিত। এটিতে মনোযোগের পরিবর্তন দ্রুত ঘটায় কিন্তু কোনো কন্টেন্টে গভীরভাবে নিমজ্জিত হতে দেয় না।
মনোযোগ এবং বোরডমের বিজ্ঞান
গবেষকরা মনে করেন বোরডম মূলত মনোযোগের অভাব ও অর্থপূর্ণ কিছু না করার অনুভূতি থেকেই আসে। যখন আমরা বারবার ভিডিও বদলাই বা স্কিপ করি, তখন আমাদের মন কোথাও স্থির থাকে না - ফলে মস্তিষ্কে ‘এটা অর্থপূর্ণ নয়’ বলে চিহ্নিত হয় এবং বোরডম বেড়ে যায়।
এটি কি বয়স বা অভ্যাসের ওপর নির্ভর করে?
গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের ভিন্ন-ভিন্ন বয়স ও অভ্যাস বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বোরডমের অনুভূতি কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কারও ক্ষেত্রে ভিডিও স্ক্রলিংয়ের ধরণ বোরডম বাড়ায় বেশি প্রভাব ফেলে, আবার কারও ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক ভিন্ন অভ্যাস থাকায় তার প্রভাব কম দেখা যায়। তুলনামূলকভাবে বেশি তথ্য সংগ্রহের জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন বলেও গবেষকরা জানিয়েছেন।
বোরডম কমাতে কী করবেন?
গবেষণার ফলাফল যদি জীবনে প্রয়োগ করা যায়, তাহলে এই কাজগুলো করে দেখতে পারেন -
>> একটি ভিডিও সম্পূর্ণভাবে দেখুন (বিশেষত দীর্ঘ ভিডিও)। কারণ, এগুলো সাধারণত বেশি আনন্দদায়ক।
>> বারবার স্ক্রল বা ভিডিও বদলানোর বদলে মনোযোগ ধরে রাখলে অভিজ্ঞতা অর্থপূর্ণ হয়।
>> সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারের সময় গভীর মনোযোগ কে প্রাধান্য দিলে বোরডম কম অনুভূত হয় এবং মানসিক শান্তি আসে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা এবং জার্নাল অব এক্সপেরিমেন্টাল সাইকোলজি
এএমপি/এএসএম