লাইফস্টাইল

বেশি বেশি অভিযোগ করলে আপনার মস্তিষ্কে যা ঘটে

দিনভর অভিযোগ - ট্রাফিক জ্যাম বেশি, কাজের চাপ বেশি, মানুষগুলো বিরক্তিকর, অমুক কাজ হলোনা, তমুকে এই কথা বললো। আমাদের আশেপাশেই এমন অনেক মুনষ আছেন, যারা সারাদিন কিছু না কিছু নিয়ে অভিযোগ করতে থাকেন।

আমরা অনেকেই এটাকে স্বাভাবিক অভ্যাস ভাবি। কিন্তু আধুনিক নিউরোসায়েন্স বলছে, এই অভ্যাস শুধু মন খারাপ করেই থামে না; এটি ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কাজ করার ধরনও বদলে দিতে পারে।

অভিযোগ আর মস্তিষ্কের সংযোগ

স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের গবেষণায় দেখা যায় - বারবার অভিযোগ করা বা নেতিবাচক ভাবনায় মস্তিষ্কের স্ট্রেস রেসপন্স সিস্টেম সক্রিয় হয়। বিশেষ করে অ্যামিগডালা ও প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সের মধ্যে এমন সার্কিট শক্তিশালী হতে থাকে, যেগুলো ভয়, হুমকি আর সমস্যা শনাক্ত করার সঙ্গে জড়িত। সহজ করে বললে, মস্তিষ্ক তখন ‘সমস্যা খোঁজার মোডে’ চলে যায়।

নিউরোপ্লাস্টিসিটি: অভ্যাসই মস্তিষ্ক গড়ে তোলে

নিউরোপ্লাস্টিসিটি মানে, মস্তিষ্ক অভিজ্ঞতা অনুযায়ী নিজেকে পুনর্গঠন করতে পারে। যেমন, আপনি যদি প্রতিদিন একই পথে হাঁটেন, পথটা ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে যায়। ঠিক তেমনি, অভিযোগ করার অভ্যাস থাকলে নেতিবাচক চিন্তার নিউরাল পথ আরও প্রশস্ত হয়।

ফলে ছোট সমস্যাও বড় মনে হয়, মানসিক চাপ দ্রুত বাড়ে, নিরপেক্ষ ঘটনাকেও নেতিবাচকভাবে ব্যাখ্যা করার প্রবণতা তৈরি হয়।

জার্নাল অব অ্যাফেকটিভ নিউরোসায়েন্সে প্রকাশিত গবেষণায় বলা হয়েছে, দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক চিন্তা আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।

তাহলে কি মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হতে পারে?

না। এখানেই আশার কথা। নিউরোপ্লাস্টিসিটি একমুখী নয়। যেমন অভিযোগের অভ্যাস নেতিবাচক সার্কিট গড়ে তোলে, তেমনি সচেতনভাবে ইতিবাচক অভ্যাস গড়লে নতুন, স্বাস্থ্যকর সার্কিটও তৈরি হয়।

কৃতজ্ঞতা চর্চা, সমস্যার বদলে সমাধানে মনোযোগ, কিংবা অনুভূতি প্রকাশের স্বাস্থ্যকর ভাষা - এসব অভ্যাস মস্তিষ্ককে ধীরে ধীরে অন্য পথে চালিত করতে পারে।

সব অভিযোগ ক্ষতিকর নয়। কিন্তু যখন অভিযোগই হয়ে ওঠে দৈনন্দিন অভ্যাস, তখন মস্তিষ্ক সেটাকেই স্বাভাবিক ধরে নেয়। তবে ভালো খবর হলো, মস্তিষ্ক শেখে এবং বদলায়। তাই অভিযোগ কমিয়ে সচেতন চিন্তার চর্চা করলে, মস্তিষ্কও ধীরে ধীরে নতুন ভারসাম্য খুঁজে পায়।

সূত্র: স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিন, জার্নাল অব অ্যাফেকটিভ নিউরোসায়েন্স, আমেরিকান সাইকোলজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউটস অব হেলথ

এএমপি/এএসএম