প্রবাস

ম্যানহাটনের সাদা নীরবতা: ঋতু বদলের এক চিরন্তন গল্প

দৃশ্যপট বদলায়, সময়ের আবর্তে ঋতুরা আসে ভিন্ন ভিন্ন রূপ নিয়ে। কিন্তু সৌন্দর্যের যে আবেদন মানুষের মনে দাগ কেটে যায়, তার আবেদন কখনও ফুরায় না।

নিউইয়র্কের ম্যানহাটন—যে শহর কখনো ঘুমায় না। গগনচুম্বী অট্টালিকা আর যান্ত্রিক কোলাহলের এই জঙ্গলের মাঝেও লুকিয়ে আছে কিছু জাদুকরী শান্ত কোণ। এই ডাইনিং স্পটগুলো যেন শহরের বুকের মাঝে এক একটি ছোট্ট দ্বীপ। যেখানে মানুষ ক্ষণিকের জন্য থেমে একটু দীর্ঘশ্বাস নেয়, নীল আকাশ দেখে আর ধোঁয়া ওঠা কফির কাপে খুঁজে পায় পরম উষ্ণতা। চারপাশের দ্রুতগতির জীবনকে একপাশে সরিয়ে রেখে এখানে জমে ওঠে আড্ডা, হাসি আর স্বাদের এক মিলনমেলা।

বছরের বারো মাসই এই জায়গাগুলো প্রাণবন্ত থাকে আউটডোর ও ইনডোর অভিজ্ঞতার সুন্দর মেলবন্ধনে। পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে ছুটে আসে শহরের স্পন্দনকে নিজ হাতে ছুঁয়ে দেখতে। খোলা আকাশের নিচে বসে সময় কাটানো কিংবা স্মৃতির অ্যালবামে নতুন কোনো উজ্জ্বল মুহূর্ত যোগ করা—ম্যানহাটনের এই রূপটি যেন এক বৈশ্বিক নাগরিকতার প্রতীক।

তবে গত রোববারের দৃশ্যটি ছিল একেবারেই অলৌকিক। টানা আট দিনের তুষারপাত পুরো ম্যানহাটনকে মুড়িয়ে দিয়েছে এক নিবিড় সাদা চাদরে। যে রাস্তাগুলো কিছুক্ষণ আগেও মুখর ছিল মানুষের পদচারণায়, সেখানে এখন শুধুই শুভ্র নীরবতা। রাস্তার পাশের টেবিল, চেয়ার, আর দোকানের ছাউনিগুলো বরফের মোলায়েম চাদরে ঢাকা পড়ে যেন একেকটি বিমূর্ত শিল্পকর্মে পরিণত হয়েছে।

শহরের সেই পরিচিত গর্জন হঠাৎ থেমে গিয়ে নেমে এসেছে এক অপার্থিব নিস্তব্ধতা। ম্যানহাটনের বুকেই যেন সযত্নে ফুটে উঠেছে সাদা রঙের এক শান্ত স্বপ্নদৃশ্য।

প্রকৃতির এই রূপবদল আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ঋতু বদলের বিস্ময়। সময় বয়ে যায়, তুষার গলে জল হয়, আবার ব্যস্ততা ফিরে আসে—কিন্তু সেই মুহূর্তের মুগ্ধতা মনের গহীনে থেকে যায় চিরকাল। দৃশ্য বদলালেও সেই স্নিগ্ধতার অনুভূতি কখনো মলিন হয় না।

এমআরএম/এমএস