টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর্দা উঠেছে আজ। তবে নিরাপত্তা ইস্যুতে ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি না হওয়ায় বাংলাদেশকে বাদ দেয় আইসিসি। সুযোগ করে দেয় স্কটল্যান্ডকে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশ না থাকায় টাইগার ক্রিকেটাররা এখন ব্যস্ত ‘অদম্য বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি কাপ’ নিয়ে।
শনিবার গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে খালেদ আহমেদের বিধ্বংসী বোলিং দুর্বার একাদশ ও দুরন্ত একাদশের মধ্যকার গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ গড়ে দেয়। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে ৪ উইকেট নিয়ে দুরন্তকে ১৪৫ রানে আটকে দেন খালেদ। এরপর দুর্বার একাদশ ১৫ বল হাতে রেখেই ৭ উইকেটের সহজ জয় তুলে নেয়। আগামী সোমবার ফাইনালে দুর্বারের প্রতিপক্ষ ধূমকেতু একাদশ।
মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে শনিবার রান তাড়ায় হাবিবুর রহমান সোহান ও মাহমুদুল হাসান জয় দারুণ সূচনা এনে দেন দুর্বারকে। সোহানের ১৭ বলে ৩৯ রানের বিধ্বংসী ইনিংসে ছিল পাঁচটি ছক্কা ও একটি চার।
আব্দুল গাফফার সাকলাইনের বলে আউট হওয়ার আগে তার এই ঝোড়ো ব্যাটিং রান তাড়ার চাপ একদম কমিয়ে দেয়। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত উইকেটে টিকতে পারেননি। তবে চার নম্বরে নামা নুরুল হাসান সোহান আর জয় বিপদ হতে দেয়নি। ৫১ বলে ৫৮ রান করেন জয়। আর সোহান ২৮ রানে অপরাজিত থেকে দলকে অনায়াসে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
এর আগে ফিল্ডিংয়ে নেমে দুরন্তের ব্যাটারদের ইনিংস জুড়ে ভুগিয়েছেন খালেদ আহমেদ। নতুন বলে দ্বিতীয় ওভারে এসেই আবরার জাওয়াদকে ফেরান তিনি। একই ওভারের শেষ বলে খালেদ লেংথ কিছুটা কমিয়ে আনেন এবং আজিজুল হাকিম তামিমকে ক্রিজ ছেড়ে বেরিয়ে আসতে বাধ্য করেন। ব্যাটের কানায় লেগে বল চলে যায় উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহানের গ্লাভসে, যার ফলে ৮ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে দুরন্ত। খালিদ তার প্রথম স্পেল শেষ করেন ২-০-৮-৩ এই অবিশ্বাস্য ফিগারে।
নবম ওভারে ফিরে এসে তিনি আবারও আঘাত হানেন। ক্রিজে ধুঁকতে থাকা মাহফিজুল রবিন একটি বাউন্সারে হুক করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে আলিস আল ইসলামের হাতে ক্যাচ দেন। খালিদ তার চতুর্থ শিকার বানান মেহেরব হোসেনকে, যিনি ৩৬ বলে ২৩ রান করে দুরন্তের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ স্কোরার ছিলেন। হাসান মাহমুদ ২৭ রানে ২ উইকেট নিয়ে খালিদকে যোগ্য সঙ্গ দেন।
শুরুতে ধস নামলেও শেষ দিকে আব্দুল গাফফার সাকলাইনের ক্যামিও ইনিংসে লড়াকু পুঁজি পায় দুরন্ত। সাকলাইন ৯ বলে ১৮ রান করেন, যার মধ্যে ছিল দুটি ছক্কা ও একটি চার। তার এই ব্যাটিংয়েই স্কোর ১৪৫ পর্যন্ত পৌঁছায়। খালিদ আহমেদ ৪ ওভার বল করে মাত্র ২৩ রান দিয়ে তুলে নেন ৪টি উইকেট।
এসকেডি/আইএইচএস/