দেশজুড়ে

জামায়াতের প্রার্থী রেজাউলের প্রার্থিতা বাতিলে ইসির সতর্কবার্তা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী রেজাউল করিমকে (দাঁড়িপাল্লা) সতর্ক করেছে নির্বাচন কমিশন। পুনরায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের উপসচিব (আইন-১) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন সই করা এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ওই চিঠির মাধ্যমে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো এবং ভোটারকে নগদ অর্থ প্রদানসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাসে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট চাওয়ার সত্যতা পাওয়ায় রেজাউলকে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

রেজাউল করিম ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি এবং লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার উত্তর জয়পুর ইউনিয়নের বাসিন্দা।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৯ জানুয়ারি লক্ষ্মীপুর-৩ সংসদীয় আসনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের একাডেমি রোড এলাকায় মাহফুজা খাতুন (৮৫) নামের এক নারীকে নগদ অর্থ প্রদান এবং ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামায়াতের প্রার্থী রেজাউল ভোট চান। এই ঘটনায় একই আসনের বিএনপি প্রার্থীর প্রধান নির্বাচনী সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি সংশ্লিষ্ট ‘ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি অ্যান্ড অ্যাডজুডিকেশন কমিটি’র কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। পরে তদন্ত কমিটি অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পায় এবং ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন জমা দেয়। কমিশন জানায়, ড. রেজাউলের এই কর্মকাণ্ড ‘সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫’-এর ৪(১) ও ১৮ বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

সতর্কবার্তায় ইসি স্পষ্ট জানিয়েছে, ভবিষ্যতে পুনরায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ৯১ক (৬গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রার্থীর ওপর জরিমানা আরোপ এমনকি তার প্রার্থিতা বাতিল করা হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা এস এম মেহেদী হাসান এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমাকে একাধিকবার কল করলেও তারা রিসিভ করেননি।

কাজল কায়েস/এসআর/এমএস