প্রবাস

ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের প্রত্যাশা

আর মাত্র তিন দিন। বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন ঘিরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যেও বাড়ছে আগ্রহ ও প্রত্যাশা। বিশেষ করে মালয়েশিয়া প্রবাসীরা এই নির্বাচনকে দেখছেন দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সুশাসন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও প্রবাসীবান্ধব নীতির প্রতিফলন-সব মিলিয়েই তাদের প্রত্যাশার পরিধি বিস্তৃত।

উন্নয়নকর্মী ও ইয়ুথ হাব মালয়েশিয়ার সহ-প্রতিষ্ঠাতা সুমাইয়া জাফরিন চৌধুরী মনে করেন, এবারের নির্বাচন তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলনের একটি বড় সুযোগ।

তিনি বলেন, দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ তরুণ। কিন্তু নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে তরুণদের কণ্ঠ এখনও যথাযথভাবে প্রতিফলিত হয় না। আমরা চাই একটি অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন, যেখানে তরুণদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও প্রযুক্তিভিত্তিক উন্নয়ন অগ্রাধিকার পাবে।

মালয়েশিয়ায় কর্মরত তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী পাভেল সারওয়ার বলেন, প্রবাসীরা শুধু রেমিট্যান্সযোদ্ধা নন, তারা জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার বড় ভাণ্ডার। একটি স্থিতিশীল সরকার এবং প্রযুক্তিবান্ধব নীতিমালা থাকলে প্রবাসী আইটি পেশাজীবীরা দেশে বিনিয়োগ ও দক্ষতা হস্তান্তরে আরও আগ্রহী হবেন। নির্বাচনের মাধ্যমে এমন নেতৃত্ব দরকার, যারা ডিজিটাল বাংলাদেশকে বাস্তব অর্থে টেকসই উন্নয়নের পথে নিতে পারবেন।

ইউনিভার্সিটি কুয়ালালামপুরের শিক্ষার্থী তাশদীদ হোসাইন চৌধুরী বলেন, প্রবাসী শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ নিয়ে আশাবাদী হতে চান। আমরা যারা বিদেশে পড়াশোনা করছি, দেশে ফিরে কাজ করার স্বপ্ন দেখি। কিন্তু রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও কর্মক্ষেত্রে মেধার সঠিক মূল্যায়ন না হলে সেই স্বপ্ন বাধাগ্রস্ত হয়। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আমাদের সেই আস্থাটা ফিরিয়ে দিতে পারে।

মালয়েশিয়া ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্সের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার এনামুল হক বলেন, প্রবাসীদের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ এখন সময়ের দাবি। বিদেশে অবস্থানরত লাখো বাংলাদেশি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। অথচ জাতীয় নির্বাচনে তাদের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ নেই। আমরা প্রত্যাশা করি, ভবিষ্যৎ সরকার প্রবাসী ভোটাধিকার বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ নেবে।

ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়ার (আইআইইউএম) পিএইচডি গবেষক আলমগীর চৌধুরী আকাশ বলেন, নির্বাচন মানেই কেবল ক্ষমতা পরিবর্তন নয়, এটি নীতিগত দিকনির্দেশনারও প্রতিফলন। গবেষণা ও উচ্চশিক্ষায় বিনিয়োগ বাড়ানো, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা—এসব বিষয়ে স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে দেখতে চাই।

প্রবাসী সুহেল তালুকদার বলেন, প্রবাসীরা দেশের রাজনীতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। বিদেশে বসে আমরা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও বৈশ্বিক রাজনীতির প্রভাব কাছ থেকে দেখি। একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখবে—এটাই প্রবাসীদের প্রত্যাশা।

অন্যদিকে মালয়েশিয়া বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী সালাহ উদ্দিন বলেন, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারই এখন প্রধান লক্ষ্য। প্রবাসীরা একটি নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অপেক্ষায় আছেন। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত না হলে উন্নয়ন টেকসই হয় না। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই।

সব মিলিয়ে মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা এক জায়গায় মিলিত—একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন। তারা চান এমন নেতৃত্ব, যারা গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও প্রবাসীবান্ধব নীতিকে সমান গুরুত্ব দেবে। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন তাই শুধু দেশের ভেতরের নয়, দেশের বাইরে থাকা লাখো প্রবাসীর কাছেও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এমআরএম