মালয়েশিয়া ও ভারত বাণিজ্য, সেমিকন্ডাক্টর, ডিজিটাল অর্থনীতি, শিক্ষা ও নিরাপত্তাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পর যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কৌশলগত ও সময়োপযোগী’ আখ্যা দিয়ে আনোয়ার বলেন, ১৯৫৭ সাল থেকে গড়ে ওঠা মালয়েশিয়া–ভারত সম্পর্ক ২০২৪ সালে ‘কমপ্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে’ উন্নীত হওয়ার পর নতুন গতি পেয়েছে।
তিনি বলেন, দুই দেশের গভীর ঐতিহাসিক সম্পর্ক, জনগণের সঙ্গে জনগণের দৃঢ় যোগাযোগ এবং ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সহযোগিতাই ভবিষ্যৎ অংশীদারত্বের মূল চালিকাশক্তি হবে। বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, স্থানীয় মুদ্রায় লেনদেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা, জ্বালানি, কৃষি, খাদ্য নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা, শিক্ষা ও জাতীয় নিরাপত্তা সবক্ষেত্রেই সহযোগিতা সম্প্রসারিত হবে।
‘এই সহযোগিতা সত্যিকার অর্থেই সর্বাঙ্গীণ,’ বলেন আনোয়ার। তিনি জানান, এর আওতায় কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ (টিভেট), স্বাস্থ্যসেবা, পর্যটন, সংস্কৃতি এবং জনগণের মধ্যে বিনিময়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বৈঠকে গৃহীত উদ্যোগগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের ব্যাপারে উভয় সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে আনোয়ার জানান, এ সময় সমঝোতা স্মারক ও চিঠিসহ মোট ১১টি নথি বিনিময় হয়েছে। এসব চুক্তির মধ্যে শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, সেমিকন্ডাক্টর সহযোগিতা, স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তার মতো নতুন ও অগ্রাধিকারমূলক ক্ষেত্র অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
বাণিজ্য প্রসঙ্গে আনোয়ার বলেন, ভারতের দ্রুত অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে মালয়েশিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হতে পারে। ২০২৫ সালে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১৮.৫৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা আরও বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগে স্থানীয় মুদ্রার ব্যবহার বাড়ছে। এক্ষেত্রে লেনদেন সহজ করতে মালয়েশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক নেগারা মালয়েশিয়া এবং ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক যৌথভাবে রিঙ্গিত ও রুপি ব্যবহারে কাজ করছে।
শিক্ষাকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে আনোয়ার বলেন, বহু মালয়েশিয়ান নাগরিক ভারতে শিক্ষাগ্রহণ করেছেন এবং বর্তমানে মালয়েশিয়ায় ভারতীয় শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বাড়ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতীয় উৎকর্ষ কেন্দ্রগুলোর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির প্রশংসা করে তিনি জানান, নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ে আরও বেশি মালয়েশিয়ান শিক্ষার্থীকে ভারতে পাঠানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হবে।
এমআরএম/এমএস