দুজন মানুষের মধ্যে আকর্ষণ কেবল বাহ্যিক সৌন্দর্য বা বয়সের উপর নির্ভর করে না। আবেগ, অভিজ্ঞতা, নিরাপত্তাবোধ এবং অপূর্ণ চাহিদার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িয়ে থাকে সম্পর্কের সমীকরণ। সেই কারণেই অনেক সময় দেখা যায়, কোনো পুরুষ তার থেকে বেশি বয়সী নারীর প্রেমে পড়ছেন। এর নেপথ্যে কাজ করে একাধিক মনস্তাত্ত্বিক কারণ।
অভিজ্ঞতার স্থিরতায় জন্ম নেয় নিরাপত্তাবোধসাধারণত বয়সে বড় নারীরা জীবনের নানা অভিজ্ঞতার ভেতর দিয়ে গেছেন। বিভিন্ন পরিস্থিতিতে কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে হয়, তা তারা ভালোভাবেই জানেন। ফলে তাদের আবেগগত স্থিরতা অনেক বেশি। এই ভারসাম্য অল্পবয়সী পুরুষদের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে। যারা নিজের জীবনে বিভ্রান্তি, চাপ বা অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন, তারা স্বাভাবিকভাবেই শান্ত ও সংযত ব্যক্তিত্বের প্রতি আকৃষ্ট হন। এতে তারা নিরাপদ ও আশ্বস্ত বোধ করেন।
শৈশবের অভিজ্ঞতার প্রভাবমানুষের সম্পর্কের ধরণ অনেকটাই নির্ভর করে শৈশবের অভিজ্ঞতার উপর। যেসব পুরুষের মায়ের সঙ্গে গভীর আবেগগত বন্ধন ছিল, কিংবা যারা বড় হওয়ার সময় যথেষ্ট মানসিক যত্ন পাননি, তারা অনেক সময় এমন সম্পর্ক খোঁজেন যেখানে উষ্ণতা ও স্নেহের উপস্থিতি থাকে। বয়সে বড় নারীরা অনেক ক্ষেত্রে সেই আবেগগত স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি দিতে সক্ষম হন।
আত্মবিশ্বাস ও স্পষ্টতা আকর্ষণের কেন্দ্রবয়সে বড় নারীরা সাধারণত নিজেদের চাওয়া-পাওয়া সম্পর্কে বেশি সচেতন থাকেন। কী চান, কী চান না-এই স্পষ্টতা তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তোলে। সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা এবং নিজের অবস্থান পরিষ্কারভাবে তুলে ধরার দক্ষতা অনেক পুরুষের কাছেই অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
পরামর্শের খোঁজকিছু পুরুষের জীবনে সঠিক লক্ষ্য বা মানসিক সমর্থনের প্রয়োজন হয়। অভিজ্ঞ নারীদের দেওয়া পরামর্শ, উপলব্ধি ও বাস্তবতা-বোধ তাদের জীবনে স্থিরতা আনে। অনেক সময় বন্ধুত্বের মাধ্যমে শুরু হওয়া সম্পর্ক ধীরে ধীরে আবেগগত আকর্ষণে রূপ নেয়।
যুক্তি ও আবেগের স্থিরতাবয়সে বড় নারী ভিন্নভাবে জীবনকে দেখেন। তারা সরল এবং দৃঢ়প্রতিজ্ঞ; আবেগ এবং যুক্তিবাদের মধ্যে বিভ্রান্ত হন না। যুক্তিকে ভালোবাসার সঙ্গে মিশিয়ে ফেলেন না এবং সঠিক ও ভুলের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্টভাবে বোঝেন। এটাই, অনেকের মতে, তাদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গুণাবলীর মধ্যে অন্যতম।
সামাজিক বিদ্রোহের মনস্তত্ত্ববয়সে বড় নারী ও কম বয়সী পুরুষের সম্পর্ক এখনো সমাজে পুরোপুরি স্বীকৃত নয়। কিছু মানুষের কাছে এই সামাজিক বাধাই সম্পর্ককে আরও রোমাঞ্চকর করে তোলে। বিদ্রোহী মানসিকতা বা প্রচলিত নিয়ম ভাঙার ইচ্ছাও আকর্ষণের একটি অংশ হয়ে উঠতে পারে।
বয়সের ব্যবধান কোনো সম্পর্কের সাফল্য বা ব্যর্থতার একমাত্র মাপকাঠি নয়। পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া এবং আবেগগত পরিপক্বতাই সম্পর্কের ভিত্তি। মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এই আকর্ষণ অস্বাভাবিক নয়, তবে সম্পর্কটি উভয় সঙ্গীর জন্য স্বাস্থ্যকর ও কল্যাণকর কি না- সেটিই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
সূত্র: টাইসম অব ইন্ডিয়া
আরও পড়ুন:অনলাইনে ভিডিও স্ক্রলিং আপনার একঘেয়েমি বাড়িয়ে দেয়, বলছে গবেষণা বেশি বেশি অভিযোগ করলে আপনার মস্তিষ্কে যা ঘটে
এসএকেওয়াই/