জাতীয়

সুশাসন, জননিরাপত্তা ও সরকারি সেবার মানোন্নয়নে ব্যাপক সংস্কার

শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়। এসব কমিশনের মাধ্যমে দেশের সুশাসন, জননিরাপত্তা ও সরকারি সেবার মান উন্নয়নে ব্যাপক সংস্কার উদ্যোগ নেওয়া ও বাস্তবায়ন করা হয়।

যেসব ক্ষেত্রে সংস্কার হয়েছে, তা নিম্নরূপ

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসরকারি সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কাঠামো পুনর্গঠন করা হয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতা দূর করতে নিয়মিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ নীতিমূলক সিদ্ধান্তে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ ও প্রমাণনির্ভর পদ্ধতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, এবং সরকারি নথি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটাল পদ্ধতি বাড়ানো হয়েছে।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়জনপ্রশাসনে পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা নিশ্চিত করতে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব কমানো হয়েছে। কর্মকর্তাদের আচরণবিধি কঠোর করা হয়েছে এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম আধুনিকায়ন করা হয়েছে। ডিজিটাল প্রশাসন জোরদারে ই-ফাইলিং, অনলাইন উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা এবং কর্মসম্পাদন মূল্যায়ন পদ্ধতিতে প্রযুক্তি ব্যবহার বাড়ানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও জননিরাপত্তাজননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত ও পেশাদার হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। গ্রেফতার, রিমান্ড ও তদন্ত প্রক্রিয়ায় মানবাধিকার রক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ হালনাগাদ করা হয়েছে এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সরকারি সেবা দেওয়ায় সংস্কারনাগরিকদের জন্য সরকারি সেবা সহজলভ্য করতে ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বিভিন্ন সেবা অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে এবং সেবা প্রদানে নির্ধারিত সময়সীমা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ডিজিটাল গ্রিভ্যান্স রিড্রেসাল সিস্টেম শক্তিশালী করা হয়েছে।

স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিসরকারি ক্রয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বাড়াতে বিদ্যমান নীতিমালা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে। বড় প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তথ্য অধিকার আইন কার্যকর করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আরও সক্রিয় করা হয়েছে।

সরকারি কর্মকর্তা সূত্র বলেছে, এসব সংস্কার নাগরিক সেবা সহজ, দ্রুত ও কার্যকর করতে এবং দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় বিশ্বাস পুনঃপ্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এমইউ/এমএএইচ/