বাংলাদেশে কার্যকর ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বন্দর ব্যবস্থা গড়ে না তুললে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না বলে মন্তব্য করেছেন পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আশিক চৌধুরী। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বন্দর ব্যবস্থা গড়ে না তুললে এলডিসি থেকে উত্তরণের সুফলও পুরোপুরি পাওয়া যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বেইলি রোডের ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।
আশিক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের বন্দর কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে অদক্ষতা ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ। বর্তমানে দেশের বন্দরগুলোর বৈশ্বিক র্যাংকিং খুবই নিচে, এ অবস্থায় বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন।
তিনি বলেন, আমাদের একটি এফিশিয়েন্ট পোর্ট খুবই দরকার। গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ডে বন্দর পরিচালনা করতে না পারলে এই অদক্ষ ও করাপ্ট বন্দরের তকমা থেকে আমরা কখনোই মুক্তি পাবো না।
পিপিপি কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালকে আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং লালদিয়া টার্মিনাল চুক্তি এরই মধ্যে সই হয়েছে। নিউমুরিং পুরোপুরি রূপান্তর না হলেও ২০২৮/২০২৯ সালের মধ্যে সেখানে আন্তর্জাতিক মানের একটি কনটেইনার টার্মিনাল গড়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আধুনিক মানে সেবা দিতে না পারলে বিদ্যমান টার্মিনালগুলো ব্যবসায়িকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
আরও পড়ুনচট্টগ্রাম বন্দরে ধর্মঘটে ঝুঁকি বাড়ছে পণ্য সরবরাহে ‘বাস্তবসম্মত নয়’ জানিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বায়ত্তশাসন প্রস্তাব স্থগিত
তিনি আরও বলেন, বিনিয়োগ হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। এটি একটি ধীর ও মধ্যমেয়াদি প্রক্রিয়া। আমরা একটি শক্ত বিনিয়োগ পাইপলাইন তৈরি করেছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল কিছু ফাউন্ডেশনাল সমস্যার সমাধান করে যাওয়া, যাতে ভবিষ্যৎ সরকার একই ধারাবাহিকতায় এগোতে পারে।
আগামী সরকার একই নীতি ও কৌশল অনুসরণ করলে তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বিনিয়োগ পরিবেশে উল্লেখযোগ্য উন্নতি দেখা যাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আশিক চৌধুরী।
তিনি বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নের কিছু ‘সিলিং’ ভাঙতে হবে। বিশেষ করে জ্বালানি সংকট, দুর্বল লজিস্টিক সক্ষমতা এবং উচ্চ পরিবহন ব্যয় বড় বাধা হয়ে আছে। যেখানে বৈশ্বিকভাবে লজিস্টিক ব্যয় গড়ে জিডিপির ১০ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশে তা প্রায় ১৬ শতাংশ। এই অদক্ষতা বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত করছে।
এছাড়া ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (এফটিএ) ও বড় কাঠামোগত সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন ছাড়া শুধু বিনিয়োগ আহ্বান করলেই ফল আসবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিনিয়োগকারীরা মাঠে এসে বাস্তব সমস্যা দেখলে তখন আর বিনিয়োগে আগ্রহী হন না বলেও জানান আশিক চৌধুরী।
নির্বাচন পরবর্তী সময়ে তিনি কি করবেন, পরবর্তী সরকার তাকে আমন্ত্রণ জানালে তিনি গ্রহণ করবেন কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে পিপিপি সিইও বলেন, আপাতত নির্বাচনেই ফোকাস করা উচিত। এরপর কী হবে, তা সময়ই বলে দেবে।
এমইউ/কেএসআর