ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে যে ইশতেহার ঘোষণা করা হয়েছে, সেখানে দেশের খেলাধুলা নিয়ে আছে বেশ কিছু পরিকল্পনা। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে ইশতেহার ঘোষণা করেন।
খেলাধুলাকে শৌখিনতা থেকে বের করে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার অঙ্গীকার নিয়ে বিএনপি তাদের নির্বাচনি ইশতেহারে আরও যে বিষয়গুলো প্রতিশ্রুতি হিসেবে উত্থাপন করেছে, তার মধ্যে আছে জাতীয় শিক্ষাক্রমে ৪র্থ শ্রেণি থেকে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করা, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’- কর্মসূচির মাধ্যমে ১২-১৪ বছরের প্রতিভাবান ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান করা, ৪৯৫টি উপজেলায় মানসম্পন্ন ইনডোর স্টেডিয়াম নির্মাণ করা ও ৬৪ জেলায় ইনডোর সুবিধাসম্পন্ন স্পোর্টস ভিলেজ নির্মাণ করা।
বিএনপির ইশতেহারে দেশের সব উপজেলায় ক্রীড়া অফিসার ও ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগ, প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে বিষয়ভিত্তিক ক্রীড়া শিক্ষক নিয়োগের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। প্রতিটি বিভাগীয় শহরে বিকেএসপির শাখা প্রতিষ্ঠা করা, সব মহানগরসহ দেশের গ্রামীণ জনপদে খেলার মাঠের সুব্যবস্থা করা, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও সুবিধাবঞ্চিতদের খেলার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং দেশে ক্রীড়া সরঞ্জাম ইন্ডাস্ট্রি স্থাপন করার অঙ্গীকারও করা হয়েছে এই ইশতেহারে।
খেলাধুলার অন্যতম শর্ত হচ্ছে খেলার পরিবেশ তৈরি এবং মাঠের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা। বিএনপি সে দিকটাও উল্লেখ করেছে তাদের ইশতেহারে। ওয়ার্ডভিত্তিক মাঠ তৈরি ও মাঠ দখলমুক্ত করা, ঢাকা শহরে ওয়ার্ড ও থানাভিত্তিক খেলার মাঠ তৈরি করার পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সম্ভব হলে দুটি ওয়ার্ডের মাঝে একটি মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণের কথাও বলেছে বিএনপি। যেসব মাঠ দখল হয়ে আছে সেগুলো বেদখল করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে দলটি।
২০৩০ সালের মধ্যে দেশের খেলাধুলাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গ্রহণযোগ্য স্থান করে নেওয়ার জন্য পরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে তারা। সে লক্ষ্যে মাল্টি গেমস ইভেন্ট, যেমন সাউথ এশিয়ান গেমস, এশিয়ান গেমস, কমনওয়েলথ গেমস, অলিম্পিক গেমসে বাংলাদেশের সম্মানজনক স্থান অর্জনের জন্য দেশে একটি আধুনিক জাতীয় অলিম্পিক একাডেমি প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে বিএনপির ইশতেহারে।
দলটির ইশতেহারে আরও যে বিষয়গুলো উল্লেখ করা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- ‘ট্যালেন্ট হান্ট’- স্কিম প্রচলনের মাধ্যমে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্রীড়ার ক্ষেত্রে ‘ট্যালেন্ট হান্ট’ করা । আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী ক্রীড়াবিদদের সম্মানজনক জাতীয় পুরস্কার দেওয়া হবে। নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা ও সুযোগ সুবিধা বৃদ্ধিকরণে ক্রীড়াঙ্গনে নারী ক্রীড়াবিদদের হয়রানি নিরসন এবং তাদের জন্য সব ধরনের আধুনিক সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তা প্রদানের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা।
ক্রীড়াঙ্গন নিয়ে সবচেয়ে বড় অভিযোগ দলীয়করণ। বিএনপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে- ক্রীড়াঙ্গনে দলীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ করে ক্রীড়াঙ্গন ও ক্রীড়া প্রতিষ্ঠানগুলোতে সঠিক নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠাকল্পে দলীয় হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে।
ক্রীড়া ও খেলাধুলার উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষক, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্রীড়া সরঞ্জামাদি সংগ্রহের জন্য সরকারি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করা হবে। ব্যাংক ও বেসরকারি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ক্রীড়া ও খেলাধুলার মানোন্নয়নকে তাদের কর্পোরেট সোশ্যাল রেসপনসিবিলিটির অন্তর্ভুক্ত করতে আরও উৎসাহিত করা হবে।
ক্রিকেট ও ফুটবলের পাশাপাশি হকি, বাস্কেটবল, ভলিবল, দাবা ও অন্যান্য খেলায়ও পেশাদার লিগ চালুর কথা বলেছে বিএনপি। একটি জাতীয় স্পোর্টস রিসার্চ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করা হবে। যার মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, আধুনিক প্রযুক্তি এবং ডাটা বিশ্লেষণ ব্যবহার করে খেলোয়াড়দের আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছাতে সাহায্য করবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে এই ইশতেহারে।
‘স্পোর্টস ইকোনমি’কে সম্প্রসারণ ও উৎসাহ প্রদান করা, যাতে ক্রীড়াঙ্গন দেশের অর্থনীতিতে মূল্য সংযোজন করতে পারে সে লক্ষ্যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি’কে গুরুত্ব দিয়ে খেলাধুলার মানোন্নয়নের জন্য ক্রীড়ায় আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পিপল-টু-পিপল সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘স্পোর্টস ডিপ্লোম্যাসি’-কে গুরুত্বারোপ করা হবে। দেশে আধুনিক ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করার বিষয়টিও উল্লেখ করেছে বিএনপি।
আরআই/আইএইচএস/