প্রবাস

মালয়েশিয়ার স্বাস্থ্য খাতে যুক্ত হচ্ছে ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতি

স্বাস্থ্যসেবা ও পর্যটন খাতে সহযোগিতা আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে মালয়েশিয়া ও ভারত। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী দাতুক সেরি আনোয়ার ইব্রাহিম ও নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এই পারস্পরিক অংশীদারত্বের নতুন দিকগুলো তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সাশ্রয়ী, সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যৌথভাবে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এর অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতার পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় চিকিৎসা পদ্ধতিকে আধুনিক চিকিৎসার পরিপূরক হিসেবে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দুই দেশের সমঝোতার আওতায় ইন্ডিয়ান টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (ITEC) কর্মসূচির অধীনে মালয়েশিয়ায় ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় চিকিৎসা (Traditional Indian Medicine-TIM) বিশেষজ্ঞ পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মালয়েশিয়ার নির্বাচিত কয়েকটি হাসপাতালে পুনরায় TIM সেবা চালু হবে, যা আধুনিক অ্যালোপ্যাথিক চিকিৎসার সঙ্গে সমন্বিতভাবে রোগীদের সেবা দেবে।

এছাড়া ওষুধ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা জোরদার করা এবং ফার্মাকোপিয়া মানদণ্ডের পারস্পরিক স্বীকৃতি নিয়েও সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় নেতা একমত পোষণ করেন।

বৈঠকে ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে স্বাক্ষরিত একটি সমঝোতা স্মারক (MoU)-এর বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। ভারতের সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন হোমিওপ্যাথি এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব সাইবারজায়ার মধ্যে স্বাক্ষরিত এই চুক্তির মাধ্যমে হোমিওপ্যাথি বিষয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও অ্যাকাডেমিক বিনিময় জোরদার হবে।

দুই দেশ কর্মী ও পেশাজীবীদের চলাচল আরও সহজ করতে বিদ্যমান প্রক্রিয়া সরলীকরণের বিষয়ে সম্মত হয়েছে। এতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অন্যান্য পেশাগত খাতে দক্ষ জনবল বিনিময় আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পর্যটন খাতকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। মালয়েশিয়া ‘ইনক্রেডিবল ইন্ডিয়া’ প্রচারণাকে স্বাগত জানিয়েছে, অন্যদিকে ভারত সমর্থন জানিয়েছে ভিজিট মালয়েশিয়া ২০২৬ উদ্যোগে। ভিসা উদারীকরণ নীতির ফলে দুই দেশের জনগণের মধ্যে যাতায়াত ও পারস্পরিক যোগাযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে নেতারা উল্লেখ করেন।

ক্রমবর্ধমান যাত্রী চাহিদা পূরণে আকাশপথ যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়। মালয়েশিয়া বিদ্যমান এয়ার ট্রাফিক রাইটস বাড়ানোর প্রস্তাব দিলে ভারতীয় পক্ষ বিষয়টি নোট করে।

এছাড়া ইউনিভার্সিটি মালায়ায় থিরুভাল্লুভার চেয়ার অব ইন্ডিয়ান স্টাডিজ কার্যকরভাবে চালু হওয়াকে স্বাগত জানানো হয়। একই সঙ্গে মালয়েশিয়ান নাগরিকদের জন্য থিরুভাল্লুভার স্কলারশিপ ঘোষণাকে প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম সাধুবাদ জানান।

এই সহযোগিতার মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়া–ভারত সম্পর্ক কেবল কূটনৈতিক পর্যায়ে নয়, বরং স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি ও জনগণের জীবনে বাস্তব ও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এমআরএম/এমএস