দেশজুড়ে

নোয়াখালীর ২৬১ ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে নোয়াখালী জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে মোট ৮৭৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ২৬১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ (অতি গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. সাদেকুল ইসলাম জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, জেলায় মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ৮৭৫টি। এর মধ্যে ৬১৪টি সাধারণ এবং ২৬১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নোয়াখালী-১ আসনে ১৪১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৮টি সাধারণ এবং ৫৩টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোয়াখালী-২ আসনে মোট ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা ১১১টি। এর মধ্যে ৭৩টি সাধারণ এবং ৩৮টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে। নোয়াখালী-৩ আসনে মোট ১৬৬টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ১০৬টি সাধারণ এবং ৬০টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বাধিক।

নোয়াখালী-৪ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৯৮টি। এর মধ্যে ১৫৬টি সাধারণ এবং ৪২টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র। নোয়াখালী-৫ আসনে মোট ১৫৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১০৪টি সাধারণ এবং ৫১টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। অন্যদিকে নোয়াখালী-৬ আসনে মোট ১০৪টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ৮৭টি সাধারণ এবং মাত্র ১৭টি অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে, যা ছয়টি আসনের মধ্যে সর্বনিম্ন।

জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্র জানায়, অতি গুরুত্বপূর্ণ চিহ্নিত কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন। তবে জেলার সব ভোটকেন্দ্রই সিসি ক্যামেরার আওতায় থাকবে।

এদিকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের কথা জানানো হলেও সুষ্ঠু ভোট নিয়ে শঙ্কা কাটছে না ভোটারদের। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে ভীতি ও সহিংসতার আশঙ্কা রয়েছে।

একাধিক ভোটারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ছয়টি আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলনসহ মোট ৪৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনি প্রচারণা জোরদার হলেও ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা রয়েছে। ভোটের দিন ও তার আগের দিন সহিংসতার আশঙ্কা করছেন তারা।

নোয়াখালী-৪ আসনের জামায়াতের প্রার্থী ইসহাক খন্দকার বলেন, একটি দলের নেতাকর্মীরা ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে নারীদের হেনস্তা করছে। এছাড়াও গণসংযোগে উসকানিমূলক বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে অনেক এলাকায় শঙ্কা আছে। আমরা নিরপেক্ষ ও কঠোর নিরাপত্তা চাই।

নোয়াখালী-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আমাদের পাশের সেনবাগে জামায়াতের কোনো প্রার্থী নাই। তারা সেখান থেকে লোকজন এসে কোম্পানীগঞ্জ কবিরহাট এলাকায় ভোটের পরিবেশ নষ্ট করার পাঁয়তারা করছে। সে ক্ষেত্রে ১৫৫ কেন্দ্রের সবগুলো ঝুঁকিপূর্ণ।

নোয়াখালী-৬ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ জাগো নিউজকে বলেন, হাতিয়া একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপ এলাকা। এখানে চোর-ডাকাত, বনদস্যু-জলদস্যুদের ব্যবহার করে একটি দল ভোট ডাকাতির চেষ্টা করছে। আমরা বারবার বিষয়টি প্রসানকে জানিয়েছি। এখনো কোনো প্রতিকার দেখছি না।

একই আসনের বিএনপির প্রার্থী মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, একটি দলের প্রার্থীর কাজ হচ্ছে আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা। এ আসনে ঝামেলা সৃষ্টি করার চেষ্টা রয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, তা প্রশাসনকে নিশ্চিত করতে হবে। আমরা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই।

নির্বাচন নিরাপত্তায় অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি নোয়াখালীতে দায়িত্ব পালন করছে ফেনী ৪ বিজিবি ব্যাটালিয়ন। ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল মোশারফ জাগো নিউজকে বলেন, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন ও ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করাই বিজিবির প্রধান লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে ১৬ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিজিবির টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স কার্যক্রম চলবে। সেনাবাহিনীসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প থেকে রোবাস্ট পেট্রোলিং, চেকপোস্ট স্থাপন ও তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

নোয়াখালীর পুলিশ সুপার টিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, নোয়াখালীর হাতিয়ায় নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডসহ পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া অন্যান্য ৫টি আসনেও সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‍্যাব, আনসারসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবেন।

জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ২৬১ অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রসহ পুরো ছয় আসনের ৮৭৫ কেন্দ্রে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে তা মোকাবিলায় প্রশাসন প্রস্তুত রয়েছে।

ইকবাল হোসেন মজনু/আরএইচ/এমএস