ধর্ম

একা নামাজে যেভাবে কেরাত পড়বেন

প্রশ্ন: একা নামাজে কেরাত পড়ার নিয়ম কী? ফজর, মাগরিব ও ইশার নামাজ যদি একা আদায় করি তাহলে কেরাত উচ্চৈস্বরে পড়তে হবে নাকি নিম্নস্বরে? জোহর ও আসর একা আদায় করলে উচ্চৈস্বরে কেরাত পড়া যাবে?

উত্তর: নামাজের একটি ফরজ আমল কেরাত বা কোরআন তিলাওয়াত। কিছু নামাজের জামাতে কোরআন উচ্চৈস্বরে পড়া ওয়াজিব, কিছু নামাজে নিম্নস্বরে পড়া ওয়াজিব। ফজর, জুমা, দুই ঈদের নামাজ, তারাবিহ, রমজান মাসের বেতর নামাজ এবং মাগবির ও ইশার প্রথম দুই রাকাতে ইমামের জন্য জোরে কেরাত পড়া ওয়াজিব। মুক্তাদি অর্থাৎ ইমামের পেছনে নামাজ আদায়কারীরা এ সব নামাজে চুপ থেকে ইমামের কেরাত শুনবেন।

সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মত অনুযায়ী মুনফারিদ বা একা নামাজ আদায়কারীর জন্যও ফজর, মাগরিব ও ইশার প্রথম দুই রাকাতে উচ্চৈস্বরে কেরাত পড়া সুন্নত। তবে নিম্নস্বরে কেরাত পড়লেও তার নামাজ হয়ে যাবে। নবীজির স্ত্রী আয়েশাকে (রা.) প্রশ্ন করা হয়েছিল, নবীজি রাতের (নফল) নামাজে উচ্চৈস্বরে কুরআন পড়তেন না নিম্নস্বরে? তিনি উত্তর দিয়েছিলেন কখনও উচ্চৈস্বরে পড়তেন, কখনও নিম্নস্বরে। (মুসনাদে আহমদ)

জোহর ও আসরের নামাজে ইমাম ও একা নামাজ আদায়কারী নিম্নস্বরে কেরাত পড়বেন। মুক্তাদি কেরাত পড়লে নিম্নস্বরেই পড়বেন তা বলাবাহুল্য। মুনফারিদ বা একা নামাজ আদায়কারীও এ দুই ওয়াক্ত নামাজে নিম্নস্বরে কেরাত পড়বেন। বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী এ দুই ওয়াক্ত নামাজে নিম্নস্বরে কেরাত পড়া ওয়াজিব। কেউ ভুল করে উচ্চৈস্বরে কেরাত পড়লে সাহু সিজদা দিতে হবে।

যে নামাজগুলোতে নিম্নস্বরে কেরাত পড়তে হয়, সেগুলোতে সুরা কেরাত এ পরিমাণ আওয়াজে পাঠ করা উত্তম যেন কেরাতের আওয়াজ নামাজি নিজে শুনতে পায়, সেখানে উপস্থিত অন্যরা শুনতে না পায়। কেউ যদি ঠোঁট নেড়ে একেবারে নিচু আওয়াজে হরফের মাখরাজ যথাযথভাবে আদায় করে পড়ে, নিজে শুনতে না পায়, তাহলেও তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।

ওএফএফ