গাজীপুরের টঙ্গীতে গণমিছিলের প্রস্তুতিকালে গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে শিশুসহ বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী দগ্ধ হয়েছেন। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে টঙ্গীর হোন্ডা রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাজীপুর-২ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এম মঞ্জুরুল করিম রনির পূর্বনির্ধারিত নির্বাচনি গণমিছিলে যোগ দেওয়ার জন্য টঙ্গীবাজার বাটাগেট এলাকায় নেতাকর্মীরা জড়ো হন। একপর্যায়ে হোন্ডা রোডের মাথায় বিএনপি অফিসের সামনে রাখা গ্যাস বেলুনে হঠাৎ করে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীর হাত, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন অংশ ঝলসে যায়। দগ্ধদের উদ্ধার করে টঙ্গী সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
দগ্ধদের মধ্যে রয়েছেন- অনিক (২৭), হাসু (৩৮), হাসনাত (১৮), হাসনাত (২২), আকাশ (২৮), রমজান (১৮), রাফি (১২), বিজয় (১৬), তাসিন (১৮), সিয়াম (১৬), মিনহাজ (১৭), নুরু (১৮), শাওন (২০), ইমাম (১৪), নির্জন (২২), মারুফ (২২), রুবেল (৩৪) ও রাব্বি (১৩)।
টঙ্গী সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. নাফিয়া শারমিন জানান, গ্যাস বেলুন বিস্ফোরণে আহতদের মধ্যে অনেকের ১৮ থেকে ২০ শতাংশ দগ্ধ থাকায় তাদের ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
তাদের জাতীয় বার্নে নিয়ে আসা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বিকেলের দিকে আমরা গাজীপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মনজুরুল করিম রনির নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছিলাম। এসময় একটি ঘরের ভেতরে রাখা বেশকিছু গ্যাস বেলুন বিস্ফোরিত হয়। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে দগ্ধ অবস্থায় তাদের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগে আনা হয়।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সহকারী অধ্যাপক ডা. শাওন বিন রহমান বলেন, দগ্ধদের ড্রেসিং চলছে। এ মুহূর্তে তাদের কত শতাংশ দগ্ধ হয়েছে তা জানানো সম্ভব হচ্ছে না। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।
টঙ্গী পূর্ব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদি হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।
মো. আমিনুল ইসলাম/কাজী আল-আমিন/এমএন/ইএ/জেআইএম