ফরিদপুর-১ আসনের বোয়ালমারীতে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি প্রচারণার মাইকিংয়ে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক ভ্যানচালককে মারধর করা হয়েছে। চোখে গুরুতর আঘাত পেয়েছেন তিনি।
আহত ভ্যানচালকের নাম জাহিদ শেখ। তিনি উপজেলার সাতৈর ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের বাসিন্দা বাচ্চু শেখের ছেলে।
সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের দিকে উপজেলার মুজুরদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত আনোয়ার হোসেনকে (৩৫) আটক করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দুপুরে জাহিদ শেখ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনি প্রচারণার মাইক নিয়ে ভ্যানে করে মুজুরদিয়া গ্রামের রাস্তা দিয়ে বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় পার্শ্ববর্তী বেড়াদী গ্রামের বাসিন্দা বিএনপির সমর্থক আনোয়ার ও মনোয়ার নামের দুই ভাই এসে মাইক বন্ধ করতে বলেন। বিষয়টি নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তারা জাহিদ শেখকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। পরে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহত ভ্যানচালককে উদ্ধার করে মুজুরদিয়া বাজারে এক চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
আহত ভ্যানচালক জাহিদ শেখ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি মাইক বাজাতে গেলে আনোয়ার এসে হুমকি দিয়ে বন্ধ করতে বলে। আমি বন্ধ না করায় সে ও তার ভাই মনোয়ার মিলে আমাকে বেধড়ক মারধর করে।’
এ বিষয়ে সাতৈর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রাফিউল আলম মিন্টু বলেন, ‘এটি জামায়াত বা বিএনপিকে কেন্দ্র করে সংঘটিত কোনো ঘটনা নয়। ভ্যানচালক মাইকিং করতে গেলে আনোয়ারের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ধাক্কাধাক্কি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এটি অনাকাঙ্ক্ষিত।’
বোয়ালমারী পৌর জামায়াতের আমির সৈয়দ নিয়ামুল হাসান অভিযোগ করে বলেন, ‘মাইক বাজাতে গেলে আনোয়ার এসে হুমকি দিয়ে বন্ধ করতে বলেন। পরে তাকে হাতুড়িপেটা করে মারাত্মক আহত করা হয়। বিষয়টি থানা পুলিশকে জানানো হলেও প্রথমে তেমন কোন গুরুত্ব দেননি। ওই এলাকার স্থানীয় চেয়ারম্যানের ইন্ধনে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
ফরিদপুর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. ইলিয়াস মোল্লা বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পাঠানো হয়েছে। আমাদের প্রচারণার মাইক বাজানো নিয়ে মূলত এই ঘটনা ঘটেছে। আগে এমন ঘটনা ঘটেনি। আমি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবো।’
এ বিষয়ে জানতে বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেনকে একাধিকবার কল করেও পাওয়া যায়নি। তিনি কল কেটে দেন।
সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী-বোয়ালমারী সার্কেল) আজম খান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে। মামলার কাজ চলছে। অভিযুক্ত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
এ বিষয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বোয়ালমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাকিবুল হাসান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পাঠানো হয়েছে। এটি একটি ফৌজদারি অপরাধ। প্রার্থী বা যে কেউ চাইলে মামলা করতে পারবেন। প্রশাসন এ ধরনের ঘটনা কঠোরভাবে দমন করতে তৎপর রয়েছে।
এন কে বি নয়ন/এসআর/জেআইএম