আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকি আর মাত্র একদিন। এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি অফিস-আদালতসহ সব ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে রাজধানী ছাড়ছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
এতে দূরপাল্লার পরিবহনের কাউন্টারগুলোতে যাত্রীর চাপ বেড়েছে। যাত্রীদের ভিড়ে টিকিট যেন সোনার হরিণে পরিণত হয়েছে। এ সুযোগে পরিবহন শ্রমিকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকা ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। এদিকে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে ১০, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি তিনদিন সরকারি-বেসরকারি অফিসে ছুটি থাকবে। এছাড়া ১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় টানা ছুটির সুযোগ পাচ্ছেন নাগরিকরা।
সরেজমিনে গাবতলী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা যায়, ঘরমুখো যাত্রীর আনাগোনা পুরো এলাকা লোকারণ্যে পরিণত হয়েছে। যাত্রীরা নিজের মতো গাড়ির জন্য দিগ্বিদিক ছুটছেন। টিকিটের জন্য এক কাউন্টার থেকে আরেক কাউন্টারে দৌড়াদৌড়ি করছেন সাধারণ মানুষ। কেউ নির্ধারিত গাড়িতে উঠতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন, আবার কেউ কাউন্টারে বসেই গাড়ির জন্য অপেক্ষা করছেন।
এছাড়া গাবতলী থেকে ছেড়ে যাওয়া লোকাল পরিবহনেও যাত্রীর চাপ লক্ষ্য করা গেছে। আসন না পেয়ে অনেক যাত্রী মিনি পিকআপে চড়ে গন্তব্যে ছুটেছেন।
বগুড়ার যাত্রী মো. রুবেল। রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। কয়েকদিনের টানা ছুটিতে ভোট দিতে বাড়িতে ফিরছেন তিনি।
তিনি বলেন, নির্বাচনের কারণে কয়েক দিনের ছুটি পেয়ে ভোট দিতে বাড়িতে যাচ্ছি। খুব কষ্টে একটা সিট ম্যানেজ করতে পেরেছি। এখন ঠিকঠাকভাবে বাড়ি পৌঁছাতে পারলেই হয়।
শুধু রুবেলই নন, তার মতো অসংখ্য মানুষ ভোটের ছুটিতে বাড়ি ফিরছেন। গাবতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় ঈদের মতো ভিড় ও উৎসবের আমেজ দেখা গেছে। তবে টিকিটের সংকট ও যাত্রীর চাপের কারণে ভোগান্তিও কম নয়। অনেক যাত্রী বাড়তি ভাড়া আদায়ের অভিযোগও করেছেন।
রাজধানীর একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করা মো. তাওছিন লম্বা ছুটিতে নিজ বাড়ি সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ফিরছেন। তিনি বলেন, ‘কোনো গাড়িতে সিট পাচ্ছি না। দু-তিনটি গাড়িতে পেছনের লাইনের সিট খালি থাকলেও সেগুলোর ভাড়া অনেক বেশি চাইছে। সাধারণ সময় ভাড়া ৬০০–৬৫০ টাকা হলেও এখন ১০০০–১২০০ টাকা চাইছে। তবু ভালো সিট পেলে তা নেওয়া যায়।’
কুষ্টিয়ার যাত্রী আবির। তিনি বলেন, সিট পেয়েছি তবে ভাড়া অনেক বেশি নিয়েছে। সবসময় ৬০০ টাকা। কিন্তু আজ ১ হাজার টাকা নিয়েছে। বাধ্য হয়ে যেতে হচ্ছে, সিট খালি নেই।
এদিকে, যাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ বিষয়ে একাধিক কাউন্টারে যোগাযোগ করা হলে তারা তা অস্বীকার করেন। তবে যাত্রীর চাপের বিষয়ে জানতে চাইলে সোহাগ পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আসিফ বলেন, ‘আজকের কোনো গাড়িতেই সিট খালি নেই।’
তিনি বলেন, ‘সিডিউল অনুযায়ী গাড়ি চলাচল করছে। সাধারণ দিনে যে পরিমাণ গাড়ি যায়, আজও সেই পরিমাণ ছেড়ে গেছে। তবে সাধারণ দিনগুলোতে গাড়িতে কিছু সিট ফাঁকা থাকে, আজ সিট খালি নেই।’
গোল্ডেন লাইনের কাউন্টার মাস্টার শওকত বলেন, ‘সাধারণ দিনের তুলনায় আজ সকাল থেকে তিনটি ডাবল গাড়ি ছেড়ে গেছে। রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত কোনো গাড়িতে সিট খালি নেই এবং নতুন গাড়িও নেই। যদি কোনো গাড়ি ট্রিপ রেখে ফিরে আসে, তবেই নতুন গাড়ি ছেড়ে যাবে।’
লিটন ট্রাভেলসের কাউন্টার মাস্টার লিমন বলেন, ‘আমাদের গাড়ির সব টিকিট অনলাইনে আগে থেকেই বিক্রি হয়ে গেছে। আজ থেকে ১০–১২ দিন আগেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। কোনো গাড়িতে সিট খালি নেই এবং যাত্রীর চাপ বেশি।’
কেআর/এমএএইচ/