জাতীয়

রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তা জোরদার করবে ডব্লিউএফপি

বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জীবনরক্ষাকারী খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে অতিরিক্ত ২০ লাখ ইউরো অনুদান পেয়েছে। ইউরোপীয় কমিশনের ইউরোপীয় নাগরিক সুরক্ষা ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম (ইসিএইচও) এর মাধ্যমে এই অর্থায়ন দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ২০২৫ সালে বাংলাদেশে ডব্লিউএফপিতে ইইউ’র মোট অবদান দাঁড়িয়েছে ১৫ দশমিক ৩ মিলিয়ন ইউরোতে।

এই সহায়তার মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রমবর্ধমান মানবিক চাহিদার প্রেক্ষাপটে এই অনুদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে ইইউ মানবিক সহায়তার প্রধান ডেভিড জাপ্পা বলেন, ২০২৫ সাল বৈশ্বিক মানবিক কার্যক্রমের জন্য চ্যালেঞ্জপূর্ণ বছর হলেও রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয়দাতা সম্প্রদায়ের পাশে থাকার বিষয়ে ইইউ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, সংকটাপন্ন মানুষের প্রতি সংহতি প্রদর্শন ইইউ’র মৌলিক নীতির অংশ এবং নিরপেক্ষ ও চাহিদাভিত্তিক সহায়তা দিতে তারা ডব্লিউএফপির মতো বিশ্বস্ত অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে।

বর্তমানে ডব্লিউএফপি ই-ভাউচার ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাকে খাদ্য সহায়তা দিচ্ছে। এর মধ্যে ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন করে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ১২ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ সহায়তা পাচ্ছে, যার মাধ্যমে তারা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনতে পারছে।

এছাড়া, শিশু এবং গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের অপুষ্টি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ৪ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার রোহিঙ্গা শিশুর জন্য স্কুল মিল কর্মসূচি এবং রোহিঙ্গা ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য জীবিকা ও সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে ডব্লিউএফপি।

ডব্লিউএফপি বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর সিমোন লসন পার্চমেন্ট বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের সময়োপযোগী সহায়তা এবং দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্ব ডব্লিউএফপিকে ক্রমবর্ধমান চাহিদা মোকাবিলায় সহায়তা করছে। তিনি বলেন, এই সহায়তা রোহিঙ্গা পরিবারগুলোর মর্যাদা বজায় রেখে প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ২০২৬ সালে চাহিদা বাড়তে থাকায় এ ধরনের সহায়তা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে।

নবম বছরে পা দেওয়া রোহিঙ্গা সংকট এখনও বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে, যার অন্যতম হলো তহবিল সংকট। ডব্লিউএফপি জানিয়েছে, ২০২৬ সালে জীবনরক্ষাকারী খাদ্য ও পুষ্টি সহায়তা কর্মসূচি চালিয়ে যেতে প্রায় ১৪৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থ প্রয়োজন। নতুন অর্থ সহায়তা না এলে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরু থেকেই সহায়তা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এএমএ