দেশজুড়ে

নগদ টাকা বিতরণ নিয়ে বিএনপি-জামায়াত প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

আসন্ন সংসদীয় নির্বাচনে ভোট কিনতে নগদ টাকা বিতরণ করা হচ্ছে বলে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের দাঁড়িপাল্লা ও ধানের শীষের প্রার্থীর পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন। এ নিয়ে দু’পক্ষই জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তাসহ নির্বাচনি সংশ্লিষ্টদের জোরালো হস্তক্ষেপ চেয়েছেন।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ধানের শীষের প্রার্থী ও বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির প্রধান নির্বাচনি সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি এমন অভিযোগ তোলেন। এদিকে দুপুরে বিএনপি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে ভোটারদেরকে টাকা দিয়ে প্রভাবিত করছে বলে লক্ষ্মীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও জামায়াতের ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি রেজাউল করিম।

এছাড়া ১১ জন প্রিসাইডিং অফিসারকে প্রশিক্ষণ না দিয়েই দায়িত্বে সংযুক্ত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

রেজাউল করিম বলেন, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা জহির কাউন্সিলর ও যুবদল নেতা তানজিদ মজিদের বিরুদ্ধে নগদ টাকা দিয়ে বিএনপির পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আমাদের মা-বোনদেরকে হুমকি ধমকিও দিচ্ছে বিএনপির লোকজন।

এদিকে ধানের শীষের প্রার্থী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানির প্রধান নির্বাচনি সমন্বয়ক ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি জামায়াতের বিরুদ্ধে রাতের অন্ধকারে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে টাকাসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখানোর অভিযোগ তোলেন।

হ্যাপি চৌধুরী বলেন, লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সেক্রেটারি রাতের অন্ধকারে ভোটারদের নগদ টাকা দিয়ে ভোট কিনতে গিয়ে জনগণের হাতে ধরা পড়েছে। পরে এ ধরনের কাজ করবে না বললে তাকে ছেড়ে দেয় লোকজন। এছাড়া জামায়াতের প্রার্থী রেজাউল করিম নিজেই একাধিক স্থানে ভোটারদের নগদ টাকা দিয়ে ভোট চেয়েছেন। ঘর নির্মাণসহ বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করেছেন। এরই মধ্যে ঘটনাটির প্রমাণও হয়েছে।

নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক ৪ জন ইউপি সদস্য বলেন, বিএনপি-জামায়াত মঙ্গলবার সকাল থেকেই ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণ করছেন। পাল্লা দিয়েই তারা ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে ভোট কেনার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছেন। পুরোই জেলাতেই ভোট কিনতে টাকার ছড়াছড়ি হচ্ছে।

লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ক্যাথোয়াইপ্রু মারমা বলেন, টাকা বিতরণ নিয়ে কেউই আমাদের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করেননি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। এরপরও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেটের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়েছে। অভিযোগ পেলে আমরা প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, নির্ধারিত সময়ের আগে নির্বাচনি প্রচারণা চালানো এবং ভোটারকে নগদ অর্থ প্রদানসহ ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার আশ্বাসে দাঁড়িপাল্লায় ভোট চাওয়ার সত্যতা পাওয়ায় রেজাউল কঠোরভাবেকে কঠোরভাবে সতর্কবার্তা দেয় ইসি। পুনরায় আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে প্রার্থিতা বাতিল হতে পারে বলেও সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। ৬ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের উপসচিব (আইন-১) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।

কাজল কায়েস/এনএইচআর/এমএন