নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর তা মেনে না নিয়ে নাশকতার চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান।
তিনি বলেন, যারা ভোটকেন্দ্রে নাশকতার চেষ্টা করবে, জালভোট, ব্যালট বক্স ছিনতাই বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে ঝুঁকি তাদেরই। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো ঝুঁকি নেই, কারণ তারা আইন অনুযায়ী কাজ করবেন। আমরা কোনো ধরনের হেজিটেশন করবো না। ঝুঁকি যদি কারও থাকে, তা আইন ভঙ্গকারীদেরই।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, তফসিল ঘোষণার আগে থেকেই র্যাব নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে জোরালো অভিযান চালানো হয়েছে। গত দেড় থেকে দুই মাসে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সময়েও অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
নির্বাচনকে তিনটি ধাপে ভাগ করে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নির্বাচন-পূর্ব, নির্বাচনের দিন এবং নির্বাচন-পরবর্তী সময়। নির্বাচন-পূর্ব সময় শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে। নির্বাচনের দিন র্যাব স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। এরই মধ্যে ৬৪ জেলায় র্যাবের টিম মোতায়েন রয়েছে।
আরও পড়ুনব্যালট পেপার ভাঁজ করবেন যেভাবে নতুন মন্ত্রিসভা গঠন পর্যন্ত যেভাবে কাজ করবেন উপদেষ্টারা
র্যাব ডিজি আরও বলেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আনসার ও পুলিশসহ সব বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। রিটার্নিং অফিসার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও ও ওসিদের সঙ্গে সমন্বয় করে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে র্যাব।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী স্থির (স্ট্যাটিক) ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি রয়েছে, পুলিশের প্রায় ২৫ হাজার ৭০০ বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ড্রোন, র্যাবের ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রয়েছে।
বহিরাগতদের উপস্থিতি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে শহিদুর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অযৌক্তিকভাবে বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে র্যাব সতর্ক নজরদারিতে রয়েছে। বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন বা ভোটার প্রভাবিত করার চেষ্টা হলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করছি। কোথাও যদি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে এবং ভোটগ্রহণের পরিবেশ নষ্ট হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন নিতে পারে।
জঙ্গি হামলার কোনো নির্দিষ্ট হুমকি নেই বলেও জানান র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান। তবে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
টিটি/কেএসআর