জাতীয়

বহুল আকাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ

বহুল আকাঙ্ক্ষিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট আজ। সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, পুরো দেশ এখন ভোটের অপেক্ষায়। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হবে, চলবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

জুলাই গণঅভ্যত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবারের সংসদ নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে দেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ, এমন কথা বলছে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ। কেমন হবে ভোট- এই প্রশ্নও রয়েছে আলোচনার কেন্দ্রে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই নির্বাচনের প্রেক্ষাপটটা ভিন্ন। সেখানে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনের পতন ও এরপর রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের বিষয়টি রয়েছে।

এরই মধ্যে ভোটের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন। ভোট কেন্দ্র করে যে কোনো ধরনের সহিংসতা, বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে সারাদেশে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রযুক্তিগত নিরাপত্তার দিক দিয়েও এবারের নির্বাচন শীর্ষে।

নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যমতে, ভোটের নিরাপত্তায় এবার মাঠে থাকছেন প্রায় ৯ লাখ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য। এরপরও ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে রয়ে গেছে শঙ্কা। ইতোমধ্যে নানা শঙ্কার কথা গোয়েন্দা প্রতিবেদনও উঠে এসেছে। প্রার্থী ও ভোটাররা আগে থেকেই শঙ্কা প্রকাশ করে আসছেন।

আরও পড়ুনসচেতনভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টারজয়-পরাজয় মেনে নেওয়ার আহ্বান সিইসিরভোট কেনাবেচার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা: ইসি

লুট হওয়া ১ হাজার ৩৩০ অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া, জমা না দেওয়া বিপুল সংখ্যক বৈধ অস্ত্র এবং অবৈধ অস্ত্রের ছড়াছড়িতে ভোটের মাঠে প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ, র‍্যাব, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। ইতোমধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রে পৌঁছে গেছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ঝুঁকিপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি নজরদারি এবং শক্ত অবস্থান নেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র তিনটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে নিরাপত্তা পরিকল্পনা সাজানো হয়েছে—সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ। গুরুত্বপূর্ণ ও অতিগুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি বডি-ওর্ন ক্যামেরা, সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন উড়বে এবার।

ডিএমপি ও পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা যায়, রাজধানীসহ বড় শহরগুলোতে টহল জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন যানবাহন ও ব্যক্তিদের তল্লাশি চলছে।

সেনাবাহিনী সূত্র জানায়, নির্বাচনের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সেখানে সেনা টহল ও ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। প্রয়োজনে দ্রুত হস্তক্ষেপের জন্য কুইক রেসপন্স টিম প্রস্তুত।

ভোটারদের নিরাপদে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া ও নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তারা আশা প্রকাশ করেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট সম্পন্ন হবে।

নির্বাচন কমিশনও (ইসি) ভোটারদের নির্ভয়ে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং যে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার তথ্য দ্রুত প্রশাসনকে জানানোর অনুরোধ করেছে। তবে ভোটগ্রহণ ঘিরে এমন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হলেও মাঠপর্যায়ে উত্তাপ ও সংশয় দুই-ই বিরাজ করছে।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নিজ নিজ ভোটাধিকার সচেতনভাবে প্রয়োগ করতে দেশের সব শ্রেণি-পেশার ভোটারদের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি বলেন, এ যুগান্তকারী গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক অনন্য ও তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। এটি শুধু একটি নির্বাচন বা সাংবিধানিক প্রক্রিয়া নয়; বরং দেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক ধারা ও জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতিফলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।

দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত একটি জাতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা ও আত্মমর্যাদার ঘোষণা দিয়েছে, এই নির্বাচন সেই আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত ও প্রাতিষ্ঠানিক বহিঃপ্রকাশ।

টিটি/ইএ/জেআইএম