জাতীয়

দুই ঘণ্টায়ও ভোট দিতে পারেননি হুইলচেয়ারে কেন্দ্রে আসা খুরশিদা

 

হুইলচেয়ারে করে সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ভোট কেন্দ্রে এসেছেন খুরশিদা আক্তার। ভোটার লাইনে ছিলেন সবার আগে। কিন্তু তার ভোট ভবনের তৃতীয় তলায়। হুইলচেয়ার নিয়ে উঠতে পারছেন না তিনি। সেজন্য ভোট দেওয়াও হয়নি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন এ নারীর।

খুরশিদা আক্তারের মা আসমানি আক্তার মেয়ের ভোটের ব্যবস্থা করতে প্রিসাইডিং ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের কক্ষে কক্ষে ছুটছেন। কিন্তু সুরাহা মিলছে না। ভোট শুরুর প্রায় দুই ঘণ্টা পার হলেও তিনি ভোট দিতে পারেননি।

এ নিয়ে ক্ষুব্ধ বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন খুরশিদা আক্তার। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমি বাংলাদেশের নাগরিক। ভোট তো আমার অধিকার। কিন্তু ভোট দিতে এসে আড়াইঘণ্টা বসে আছি। আমার ভোটকক্ষ তিন তলার রুমে। কেউ ভোটটা নেওয়ার ব্যবস্থা করছেন না। প্রতিবন্ধীদের কি ভোট দেওয়ার অধিকার নেই?

খুরশিদা আক্তারের বয়স ২৯ বছর। তিনি রাজধানীর দক্ষিণ বাড্ডা এলাকায় ভাড়া বাসায় মায়ের সঙ্গে বসবাস করেন। তার ভোট কেন্দ্র রাজধানীর বাড্ডার আলাতুন্নেছা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়। ঢাকা-১১ আসনে এবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে তিনি ভোট দিতে এসেছেন।

খুরশিদার মা আসমানি আক্তার জাগো নিউজকে বলেন, আগেও দুইবার ও ভোট দিয়েছে। সেইবার নিচতলায় ভোট ছিল। এবার তিনতলায় ভোট। সকালে এসে আমি ভোট দিছি। কিন্তু মেয়েটার ভোট হয়নি। আমি বলছি, যেহেতু ঝামেলা হচ্ছে, এবার ভোটটা দিস না। কিন্তু ও ভোট না দিয়ে যেতে চাইছে না; নাছোড়বান্দা

খুরশিদার মা জানান, জন্ম থেকেই বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন তার একমাত্র মেয়ে। তার দুই হাত-পা স্বভাবিক নয়। হুইলচেয়ারে চলাফেরা করতে হয়। বাবা মারা গেছেন অনেক আগে। ভাই-বোনও আর নেই। আমি আর মেয়ে; দুইজনের সংসার। পরের বাড়িতে কাম-কাজ করে খাই।

আলাতুন্নেছা উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের যে কেন্দ্রে খুরশিদা ভোট দেবেন, সেখানে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে মোহাম্মদ বরকত হোসেন। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, উনি যে আমার কেন্দ্রের ভোটার তা আমাকে জানানো হয়নি। এখানে মোট পাচটি কেন্দ্র। তারা এসে আমার সঙ্গে মাত্র যোগাযোগ করেছেন। আমি ব্যবস্থা করছি।

এএএইচ/এসএনআর