জাতীয়

ভোটকেন্দ্র পরিদর্শনে ববি হাজ্জাজ

উৎসবমুখর পরিবেশে চলছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ভোট গ্রহণের প্রথম প্রহরেই নিজ আসনের ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএম প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে মোহাম্মদপুর সরকারি শারীরিক শিক্ষা কলেজের ভোট কেন্দ্রে পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় কেন্দ্রের বুথগুলো ঘুরে দেখেন এবং দলীয় এজেন্ট ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।

প্রসঙ্গত, জাতীয় সংসদীয় আসন ঢাকা- ১৩ উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নং ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত। এই আসনটিতে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৯১জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯ হাজার ৮১২জন, নারী ভোটার ১লাখ ৯৮ হাজার ৯৭১ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৮ জন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনটিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে মনোনীত হয়ে ধানের শীষ প্রতিকে লড়ছেন জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন এনডিএম প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ। এছাড়াও জামায়াত জোটে মনোনীত রিকশা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মো. মামুনুল হক।

এছাড়াও এই আসটিতে সংসদ প্রার্থী হিসেবে ট্রাক প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) মিজানুর রহমান, কলস প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সোহেল রানা। রকেট প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি)-এর মো. শাহাবুদ্দিন। মই প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ-এর মো. খালেকুজ্জামান। হারিকেন প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগ-এর শাহরিয়ার ইফতেখার। আপেল প্রতীকে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ-এর ফাতেমা আক্তার মুনিয়া এবং ঘুড়ি প্রতীকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন শেখ মো.ন রবিউল ইসলাম।

এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে ঢাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে পুলিশ। ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা ছাড়াও পুলিশের বিশেষায়িত বোম্ব ডিজপোজাল ইউনিট, সোয়াত, কে-৯ ইউনিট ও ক্রাইম সিন ভ্যান মাঠে মোতায়েন রয়েছে।

এছাড়াও সারা দেশের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছে বিভিন্ন বাহিনীর মোট ৯ লাখ ১৯ হাজার ৩৫০ জন সদস্য। এর মধ্যে ১ লাখ ৩ হাজার সশস্ত্র সদস্য রয়েছে সেনাবাহিনীর

নৌবাহিনীর উপকূলীয় পাঁচ জেলায় ১৭ আসনে ৫ হাজার এবং বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৫শ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্ট গার্ড ৩ হাজার ৫৮৫ জন, পুলিশ ১ লাখ ৮৭ হাজার ৬০৩ জন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) ৯ হাজার ৩৪৯ জন, আনসার ৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন এবং বিএনসিসি’র ১ হাজার ৯২২ জন সদস্য দায়িত্বে রয়েছেন।

অন্যদিকে নির্বাচনী অপরাধের বিচার কার্যক্রম পরিচালনায় নিয়োজিত রয়েছেন ৬৫৭ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট, ১ হাজার ৪৭ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী তদন্ত কমিটিতে ৩শ জন বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন ধরনের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এদিকে জানা গেছে, ভোট পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশনের আমন্ত্রণে ৫৭ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক, স্বেচ্ছায় ৩৩৫ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক এবং ১৫৬ জন বিদেশি সাংবাদিক ইতোমধ্যে দেশে এসেছেন। পাশাপাশি দেশীয় পর্যবেক্ষক হিসেবে ৮০টি সংস্থার ৪৪ হাজার ৯৯৫ জন মাঠে থাকবেন।

কেআর/জেএস