রাজধানীর মাদারটেক আব্দুল আজিজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন ঢাকা-৯ আসনের বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ হাবিব। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট দেন তিনি।
ভোট প্রদান শেষে হাবিবুর রশিদ সাংবাদিকদের বলেন, দীর্ঘদিনের আন্দোলন ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরে আমি আনন্দিত। ভোটের মাধ্যমে শহীদ ও নিখোঁজ সহযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানাতে পেরেছি।
হাবিবুর রশিদ বলেন, বহু বছর পর ভোট দিতে এসে তার মনে হয়েছে তিনি রাষ্ট্রের একজন নাগরিক এবং নাগরিক হিসেবে তার ভোটাধিকার রয়েছে। গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে আন্দোলন করতে গিয়ে অনেক সহযোদ্ধাকে হারানোর কথাও তিনি উল্লেখ করেন।
ধানের শীষ প্রতীকের এই প্রার্থী বলেন, জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার শহীদ হওয়া, সহযোদ্ধাদের গুম ও পঙ্গুত্ববরণের ঘটনাগুলো স্মরণ করে তিনি ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের আত্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
ঢাকা-৯ আসনে ভোটের পরিবেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে ভোটাধিকার নিশ্চিত ও স্থিতিশীল থাকবে এমন প্রত্যাশা তার। তিনি চান ভোটাররা নিজেরাই তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করবেন এবং নির্বাচিত প্রতিনিধি জনগণের কাছে জবাবদিহির মধ্যে থাকবেন। জনগণের ভালোবাসা ও ভোট ছাড়া কোনো প্রতিনিধির পক্ষে মানসিকভাবে শক্তিশালী থাকা বা এলাকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়।
ভোট গ্রহণে কোনো অভিযোগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, তেমন কোনো অভিযোগ নেই। তবে অনেক ভোটার ব্যালট পেপার কীভাবে ভাঁজ করতে হবে তা নিয়ে বিভ্রান্তিতে পড়ছেন বলে জানিয়েছেন। এ বিষয়ে পোলিং ও প্রিজাইডিং কর্মকর্তাদের ভোটারদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি, যাতে কোনো ভোট নষ্ট না হয়।
গণভোট ও দুই ধরনের ব্যালট নিয়ে বিভ্রান্তির বিষয়ে তিনি বলেন, ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার মাধ্যমে ভোটাররা সচেতন হয়েছেন এবং অধিকাংশই বিষয়টি সম্পর্কে জানেন। তবে কিছু ক্ষেত্রে নতুন ব্যালট ব্যবহারে সীমিত সমস্যা দেখা দিতে পারে ।
নিজের বিজয়ের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে হাবিবুর রশিদ বলেন, তিনি বিষয়টি ভোটারদের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্ক রয়েছে। ভোটাররা ভোট দিলে তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশা করেন।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, অতীত ও বর্তমান বিবেচনায় যদি ভোটাররা মনে করেন তিনি ভবিষ্যতের জন্য উপযুক্ত, তবে তারা তাকে নির্বাচিত করবেন। এলাকার মানুষ তার সম্পর্কে সহজেই খোঁজ নিতে পারবেন।
ভোটার উপস্থিতি প্রসঙ্গে বিএনপির এ প্রার্থী বলেন, অনেকদিন পর ভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচিত হবে এমন বিশ্বাস থেকে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা যাচ্ছে।
ঢাকা-৯ আসনে ১২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) হাবিবুর রশিদ, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া, জাতীয় পার্টির (জাপা) কাজী আবুল খায়ের, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ ইফতেখার আহসান, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মাসুদ হোসেন, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের নাহিদ হাসান চৌধুরী জুনায়েদ, গণফোরামের নাজমা আক্তার, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) মোঃ মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) খন্দকার মিজানুর রহমান, ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির (এনপিপি) শাহীন খান, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্টের (বিএনএফ) মোহাম্মদ শফি উল্লাহ চৌধুরী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা।
শাহরিয়ার রাকিব/এমএমএআর/