মেট্রোরেলের আশীর্বাদে রাজধানীর উত্তরপ্রান্ত উত্তরা ও মিরপুর এলাকায় বসবাসকারী অনেকে এবার সহজেই দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকা যেমন দনিয়া, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সদরঘাট এলাকায় গিয়ে ভোট দিতে পারছেন।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনেও স্বাভাবিক সময়সূচিতে মেট্রোরেল চালু থাকায় সহজেই ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা ভোটারদের অংশগ্রহণে নতুন স্বস্তি এনে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন জাগো নিউজকে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের দিন ভোটারদের যাতায়াত সহজ করতে মেট্রোরেল চালু রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। সাধারণত নির্বাচনের দিন সব ধরনের গণপরিবহন বন্ধ থাকে, রিকশা ছাড়া।
‘আমি শনির আখড়া এলাকার ভোটার, তবে বর্তমানে উত্তরার ১৩ নম্বর সেক্টরে থাকি। দূরত্বের কারণে প্রথমে ভোট দিতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু পরে জানতে পারি, নির্বাচনের দিনও মেট্রোরেল চলবে। তখনই সিদ্ধান্ত নেই যে ভোট দিতে যাব’, বলে জানান সরকারি অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ দবিরুল ইসলাম।
এ প্রতিবেদক মিরপুর-১০ থেকে মেট্রোরেলে চড়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাত্রা করার সময় কয়েকজন যাত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন, দবিরুল ইসলাম তাদেরই একজন।
দবিরুল ইসলাম বলেন, ‘মেট্রোরেল না চললে আমি কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারতাম না। এখন মেট্রোরেল ব্যবহার করে মতিঝিল পৌঁছে সেখান থেকে শনির আখড়া গিয়ে ভোট দেব। ভোট দেওয়ার পর কিছুক্ষণ পুরনো বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে বাড়ি ফিরে যাব।’
মেট্রোরেলের এই সুবিধা, তার মতো অনেক ভোটারের জন্য ভোটাধিকার প্রয়োগকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করে তুলেছে।
উত্তরা ৭ নম্বর সেক্টরের বাসিন্দা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্রী সাবরিনা তিথি। স্বামীর সঙ্গে ভোট দিতে গেছেন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার কেন্দ্রে। বলেছেন, ‘মেট্রোরেলের কারণে এখানে আসা সম্ভব হলো। না হলে আমি হয়তো সাহসও করতাম না। বাসা থেকে মেট্রো স্টেশনে পৌঁছানো খুবই সহজ, আধ ঘণ্টার মধ্যেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পৌঁছে ভোট দিতে পারলাম এবং অল্প সময়ের মধ্যে ভোট দিলাম।’
সাবরিনা তিথি আরও বলেন, ‘এ বছরের ভোট অনেক শান্তিপূর্ণ এবং ঝামেলামুক্ত মনে হচ্ছে। যদি নির্বাচনের পর কোনো সহিংসতা না হয় এবং সব দল ফলাফলকে গ্রহণ করে দেশের উন্নয়নে মনোনিবেশ করে, তবে এটি দেশের জন্য সত্যিই একটি ইতিবাচক বার্তা হবে।’
মেট্রোরেলের সুবিধা শুধু যাতায়াত সহজই করেনি, বরং ভোটারদের আত্মবিশ্বাসও জোগাচ্ছে, যা শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে তিনি জানান।
‘আগে ভাবতাম দূরত্ব আর যানজটের কারণে ভোট দিতে যাওয়া কঠিন হবে। কিন্তু এবার মেট্রোরেলের কারণে সময়ের দিক থেকে সব সহজ হয়ে গেছে। বাসা থেকে স্টেশনে এসে দ্রুত ট্রেনে চড়তে পারলাম, আশা করি অল্প সময়ের মধ্যেই ইসলামপুরে পৌঁছে যাব এবং ভোট দিতে পারবো’, বলে জানান মোঃ রিয়াদ। তিনি মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনে থাকেন। কিন্তু ভোটার হিসেবে পুরান ঢাকার ইসলামপুরে নিবন্ধিত।
নির্বাচনের দিনে স্বাভাবিক সময়সূচিতে মেট্রোরেল চালুর সরকারি সিদ্ধান্তে রাজধানীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা ভোটারদের জন্য সহজ হয়েছে। দ্রুত ও নিরবচ্ছিন্ন এই গণপরিবহন ব্যবস্থা ভোটারদের নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে পৌঁছাতে সহায়তা করছে, যা নির্বাচনে অংশগ্রহণ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে, বলে মন্তব্য করেছেন তারা।
আইএইচও/এমএমএআর