জাতীয়

ভোট শেষে সড়কে দাঁড়িয়ে-বসে আড্ডা

রাজধানীর পুরান ঢাকার লক্ষ্মীবাজার সুবাস বোস অ্যাভিনিউ। প্রধান সড়কটির দুই পাশে আটটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভোট কেন্দ্র। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই কেন্দ্রগুলোতে ভোট দিতে শুরু করেন স্থানীয়রা।

পুরান ঢাকায় স্থান স্বল্পতা থাকায়, ভোট দেওয়ার পরেই কেন্দ্র থেকে বের হয়ে প্রধান সড়কটিতেই দাঁড়িয়ে পরিচিতজনদের সঙ্গে খানিকটা আড্ডায় মেতে উঠছেন ভোটাররা। প্রধান সড়কে দুপাশেই ফুটপাতের জায়গা দখল করে বসা অস্থায়ী দোকানপাটের চৌকি ও বেঞ্চগুলো আজ ফাঁকা পড়েছিল। সেগুলোতেই বসছেন অনেকে আবার দাঁড়িয়েও থাকেন।

তাদের আড্ডার বিষয় ছিল আজকের গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন। নিজেরা নিজেরাই হিসাব করছেন কে আসতে পারে ক্ষমতায়। কে কী করেছেন, কাদের কী পরিকল্পনা রয়েছে।

অন্যদিনগুলোতে এই সড়কটির দু’পাশে অসংখ্য খাবারের দোকানসহ অন্যান্য দোকান খোলা থাকলেও আজ সব দোকান বন্ধ। তবুও পথের ধারে বসেই পুরনো বন্ধু, অপরিচিতদের সঙ্গে গল্প করে তবেই বাড়ি ফিরছেন ভোটাররা।

তাদেরই একজন অমিত রায়। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, বয়সের সঙ্গে ব্যস্ততাও বেড়েছে। বন্ধু, পরিচিতজনের সঙ্গে বছরের পর বছর দেখা হয় না। ভোট দিতে এসে হুট করে অনেকের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আজকে আর অন্য কোনো কাজ না থাকায় আমরা আড্ডা দিচ্ছি।

অমিত রায়ের বন্ধু আলামিন শেখ জানালেন, আমরা একসঙ্গে ইসলামিয়া হাইস্কুলে পড়াশোনা করেছি। পরে ব্যবসায় আর নিজেদের পারিবারিক ব্যস্ততায় দেখা-সাক্ষাৎ কমে গেছে। আজ সুযোগ পেয়ে আগের স্মৃতিগুলো নিয়ে কথা হচ্ছে, ভোটের বিষয়ও আলোচনা করছি।

রানা রহমান, স্থানীয় ব্যবসায়ী। তিনিও মোবাইল হাতড়িয়ে ভোটের নানা সংবাদ সংগ্রহ করে পাশে থাকা বন্ধুদের বলছিলেন।

সংবাদ সংগ্রহের সময় জাগো নিউজের প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা বলতে আসেন রানা রহমান। জানতে অনুরোধ করলেন, পুরান ঢাকার নির্বাচনের সংবাদ প্রকাশ হচ্ছে কি-না।

রানা রহমানকে পুরো নির্বাচন প্রচারণার সময় এবং ভোটের দিন সকাল থেকেই জাগো নিউজে একাধিক সংবাদ প্রকাশ হয়েছে জানানো হয়। কিছু সংবাদ জাগো নিউজের সংবাদ অ্যাপ থেকেও দেখানো হয়। পরবর্তীতে তিনি নিজের মোবাইল ফোনে জাগো নিউজের অ্যাপ ইনস্টল করে দেওয়ার অনুরোধ করেন।

তার পাশে থাকা বড় বোনও জানান, কিছুদিন আগে জাগো নিউজে প্রকাশিত লক্ষ্মীবাজারের দুর্ভোগ সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদন ও ভিডিও তিনি দেখেছেন।

সড়কটিতে অনেকেই ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছিলেন। পরে আবার শুভেচ্ছা বিনিময় করে বাড়িতে ফিরছিলেন। দুপুর সাড়ে ১২টায় প্রতিবেদনটি লেখার সময় পর্যন্ত সড়কে ভোটারদের বেশ উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩৪, ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২, ৪৩, ৪৪, ৪৫ ও ৪৬ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত ঢাকা-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৫২ হাজার ৫১৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬১ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ৩ জন।

পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট প্রদানের জন্য নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ২ হাজার ৮৪৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ হাজার ৮৩ জন এবং নারী ভোটার ৭৬২ জন। প্রদানকৃত পোস্টাল ব্যালটের ভোট গণনা করা হবে ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে। অন্যদিকে সাধারণ ভোটগুলো সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পরপরই গণনা করা হবে।

এই আসনে এবারের নির্বাচনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ইশরাক হোসেন ধানের শীষ প্রতীকে এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ড. মো. আব্দুল মান্নান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এছাড়া জাতীয় পার্টির প্রার্থী আমির উদ্দিন আহমেদ (ডালু) লাঙ্গল প্রতীকে, গণঅধিকার পরিষদের (জিওপি) প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম ট্রাক প্রতীকে, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী মো. আক্তার হোসেন হারিকেন প্রতীকে, গণফ্রন্টের প্রার্থী আহমেদ আলী শেখ মাছ প্রতীকে এবং বাংলাদেশ কংগ্রেসের প্রার্থী মো. ইউনুস আলী আকন্দ ডাব প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন।

নির্বাচন ঘিরে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

এমডিএএ/এসএইচএস