ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণকালে রোহিঙ্গাদের ব্যবহারে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার আশঙ্কা ছিল প্রশাসনে। কিন্তু আগাম প্রস্তুতি ছিল। ভোটগ্রহণ এবং আগে-পরে পুরো সীলগালা থাকবে কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্প এবং চালানো হবে তল্লাশি। সেভাবেই কঠোরতায় মাঠে ছিল সেনা নেতৃত্বাধীন যৌথবাহিনীর কার্যক্রম। ফলে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সংলগ্ন টেকনাফ-কক্সবাজার মহাসড়কসহ ক্যাম্পগুলোর প্রবেশমুখে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরাপত্তা বলয় ছিল লক্ষ্য করার মতো।
জেলার উখিয়া-টেকনাফের ৩৩টি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝে উখিয়ায় রাজাপালং ও পালংখালীতে ২৬টি ক্যাম্পের অবস্থান। ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল থেকে এলাকার সার্বিক নিরাপত্তায় সেনাবাহিনীর অন্তত ২০টি তল্লাশি চৌকি সক্রিয় ছিল। বেলা ১১টার দিকে উখিয়ার চারটি রোহিঙ্গা ক্যাম্পের (৮ ইস্ট, ৮ ওয়েস্ট, ৯ ও ১০) প্রবেশপথের পার্শ্ববর্তী বালুখালী কাশেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের ফটক থেকে শুরু সড়কে আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে তৎপরতা অব্যাহত রাখেন সেনাসদস্যরা।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা রিফাত আসমা বলেন, ‘ভোট সুষ্ঠু ও নিরাপদ করতে সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছিল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় সকাল থেকে শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক ছিল। ভোটগ্রহণ থেকে শুরু করে ফলাফল গণনা পর্যন্ত এবং পরবর্তী সময়ে যেন পরিস্থিতি ভালো থাকে, সে লক্ষ্যে উপজেলা কমান্ড সেন্টার থেকে সার্বক্ষণিক কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় জানায়, চারটি আসনে ১৮ লাখ ৪৯ হাজার ৯৯২ জন ভোটারের জন্য ৫৯৮টি কেন্দ্রে প্রায় ৩৭০০ বুথ তৈরি করা হয়। সাড়ে ৪টায় ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর চলছে ভোট গণনা।
সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিরাপদ রাখতে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। এ লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমান্ড সেল তৈরি এবং প্রতিটি পর্যায়ে কন্ট্রোলরুম স্থাপন করে ভোটারের অভিযোগ দায়েরের জন্য সরাসরি সংযোগ স্থাপিত হয়।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার এম এ মান্নান এবং পুলিশ সুপার এএমএন সাজেদুর রহমান একসাথে উখিয়া-টেকনাফ এলাকা এবং জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন। জেলা কমান্ড সেন্টারে সব বাহিনীর সমন্বিত উপস্থিতিতে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনী নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সায়ীদ আলমগীর/এসইউ