রাজনীতি

ভোট গণনায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে গভীর রাতে ইসিতে মামুনুল হক

ঢাকা-১৩ আসনের ভোটগণনায় অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টায় আগারগাওয়ের নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবনে অভিযোগ দিতে আসেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

এর আগে, এই আসনের রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে তিনি অভিযোগ দেন রাত ২টার দিকে। তখন রিটার্নিং অফিসার তাকে বলেন, পাশেই নির্বাচন কমিশনের অফিস । আপনি সেখানে অভিযোগ দিতে পারেন। এছাড়া, ফলাফল ঘোষণার পর সংক্ষুব্ধ বলে আদালতে অভিযোগ দিতে পারেন। আদালত আমাদের যে নির্দেশনা দেবেন আমরা সেভাবে কাজ করবো । প্রয়োজনে পুনরায় ভোট গণনা হবে।

এই অভিযোগের বিষয়ে মামুনুল হক জানান, ঢাকা ১৩ আসনে ৯ জন প্রার্থী। ব্যালটের এক পাশে ৫ জন প্রার্থীর নাম, অন্য পাশে চারজন প্রার্থীর নাম। আমার নাম বাম দিকে, সবার নিচে। নামের পাশের ঘর খালি থাকায় অনেক ভোটার ভুলক্রমে ফাঁকা জায়গায় সিল বসায়। সেই ব্যালটগুলো বাতিল করা হয়েছে।

খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, ঢাকা-৮ আসনে আমার মতো একই রকম ভাবে বিএনপির প্রার্থী মির্জা আব্বাসের নাম ব্যালটে থাকায় সেখানেও কিছু সিল ফাঁকা জায়গায় পড়ে। কিন্তু সেসব ভোট মির্জা আব্বাসের নামে গণনা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ৫০টা কেন্দ্রের ফলাফল ঘোষণায় আমার ১২০০ ভোট বাতিল হয়েছে । বাকি ভোটকেন্দ্রগুলোর ভোট গণনা বাকি আছে। আমরা ধারণা করছি, সব ভোটকেন্দ্রের এমন ভোটগুলো বাতিল করলে তা প্রায় তিন হাজারে পৌঁছাবে। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ১৩৭ টি। কিন্তু ঢাকা-১৩ আসনে আমার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করা বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজকে ২২০০ ভোটের ব্যবধানে আমার থেকে এগিয়ে আছে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু আমার বাতিল করা ৩০০০ ভোট বৈধ হিসাবে গণ্য করা হলে এ আসনে আমি জয়ী হই।

মামুনুল হক আরও বলেন, আমার আশঙ্কা হলো ৫০টি কেন্দ্রে ১২০০ ভোট বাতিল হয়েছে। তাহলে ১৩৭টি কেন্দ্রের মধ্যে কতগুলো ব্যালট বাতিল হবে? এটি নিয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলেছি। তিনি বলেছেন এটা আমার বিষয় নয়। এটা কমিশনের বিষয়। ওখানে (তার আসনে) একাধিক কেন্দ্রে ফলাফল দিতে অনেক দেরি করেছে। বিলম্ব করে আমাদের আশঙ্কা যে সেই সময় তারা ইঞ্জিনিয়ারিং করার চেষ্টা করেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা আমাকে ইসি সচিবের সঙ্গে আলাপ করার পরামর্শ দেন, তবে ইসি সচিব বললেন এটা আমার এখতিয়ারভুক্ত না। রিটার্নিং কর্মকর্তা বলতে পারবেন।

এসএম/এএমএ