১২ ফেব্রুয়ারি হয়ে গেলো ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। এবারের নির্বাচনে ভূমিধস জয় পেয়েছে বিএনপি। পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী অন্তত ৬০টিতে জয় পেয়েছে। তবে জেলাসহ ঢাকার ২০টি আসনের মধ্যে ৬টিতেই জয় পেয়েছেন জামায়াতের প্রার্থীরা। বলা চলে ঢাকার ৬টি আসনই জয় পেলো তারা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা জেলার অন্তর্গত পাঁচটি আসনেই বিএনপির মনোনীত প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিনগত রাতে ঢাকার রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক রেজাউল করিম এ ফলাফল ঘোষণা করেন।
ঢাকা-১ (বিএনপি)ঢাকা-১ (দোহার ও নবাবগঞ্জ) আসনে খন্দকার আবু আশফাক ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৭৩ হাজার ৭৮১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. নজরুল ইসলাম পেয়েছেন এক লাখ ১২ হাজার ৬২২ ভোট।
ঢাকা-২ (বিএনপি)ঢাকা-২ (কেরানীগঞ্জ মডেল থানা, সাভারের একাংশ ও কামরাঙ্গীরচর থানা) আসনে আমানউল্লাহ আমান ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৩ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আব্দুল হক পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩ ভোট।
ঢাকা-৩ (কেরানীগঞ্জ উপজেলার জিনজিরা, আগানগর, তেঘরিয়া কোন্ডা ও শুভাঢ্যা ইউনিয়ন) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ধানের শীষ প্রতীকে ৯৮ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. শাহীনুর ইসলাম পেয়েছেন ৮২ হাজার ২৩২ ভোট।
ঢাকা-১৯ (বিএনপি)ঢাকা-১৯ (সাভার-আশুলিয়া) আসনে দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৯০ হাজার ৯৭৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট মনোনীত দিলশানা পারুল পেয়েছেন এক লাখ ২৫ হাজার ২৮৩ ভোট।
ঢাকা-২০ (বিএনপি)ঢাকা-২০ (ধামরাই উপজেলা) আসনে তমিজ উদ্দিন ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৬২ হাজার ৫০৪ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী নাবিলা তাসনিম শাপলা কলি নিয়ে পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৭৮৭ ভোট।
এদিকে, ঢাকার অন্যান্য আসনগুলোর মধ্যে ঢাকা-৪ (জামায়াত)ঢাকা-৪ আসনে বিজয়ী হয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী জয়নুল আবেদীন। ঢাকা-৪ আসনে প্রাথমিক ফলাফলে প্রায় ৩ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন সৈয়দ জয়নুল আবেদীন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মোট ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী তানভীর আহমেদ পেয়েছেন ৭৪ হাজার ৪৪৭ ভোট। শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিজ কার্যালয়ে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করেন। ঢাকা-৪ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১১৬টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। মোট ভোটার ৩ লাখ ৬২ হাজার ৫০৬ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬২১ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ২ হাজার ৫৫২টি। সে হিসাবে বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৬২ হাজার ৬৯টি। ভোট পড়ার হার ৪৫ শতাংশ। এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সৈয়দ মো. মোসাদ্দেক বিল্লাহ হাতপাখা প্রতীকে ৬ হাজার ৫১৮ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী মিজানুর রহমান ফুটবল প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৮৬৭ ভোট পেয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৫ আসনের প্রাথমিক ফলাফলে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ কামাল হোসেন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ৬টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ফল ঘোষণা করেন। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মোহাম্মদ কামাল হোসেন পেয়েছেন ৯৬ হাজার ৬৪১ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মো. নবী উল্লাহ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৪৯১ ভোট। ফলে ৯ হাজার ১৫০ ভোটের ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হয়।
ঢাকা-৬ (বিএনপি)ঢাকা-৬ আসনে বিজয়ী বিএনপির ইশরাক হোসেন। বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী ইশরাক হোসেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়েছেন। ইশরাক হোসেনের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. আবদুল মান্নান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৯৭ ভোট। ইশরাক হোসেন ২৩ হাজার ১৫৩ ভোটের ব্যবধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীকে হারিয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে চারটার দিকে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করেন। শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, ঢাকা-৬ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১০১টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। এ আসনে মোট ভোটার ছিলেন ২ লাখ ৯২ হাজার ২৮১ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩৮৮ জন। ভোটের হার ৪৮ শতাংশ। এ আসনে ভোট বাতিল হয়েছে ২ হাজার ২০৯টি। সে হিসেবে বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৭৯টি।
ঢাকা-৭ (বিএনপি)ঢাকা-৭ আসনে ১ লাখ ৪ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান। তার নিকটতম প্রার্থী জামায়াতের প্রার্থী মো. এনায়েত উল্লাহ পেয়েছেন ৯৮ হাজার ৪৮৩ ভোট। অর্থাৎ বিএনপির প্রার্থী হামিদুর রহমান ৬ হাজার ১৮৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। শুক্রবার সকাল পৌনে ছয়টায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিজ কার্যালয়ে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করেন। ঢাকা-৭ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৬৫টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ হয়। মোট ভোটার ছিলেন ৪ লাখ ৭৯ হাজার ৩৭৮ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৩০ হাজার ৮৬১ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৬টি। সেই হিসাবে বৈধ ভোট ছিল ২ লাখ ২৬ হাজার ১৭৫টি। এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহাক সরকার ফুটবল প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১১ হাজার ৫১৭ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবদুর রহমান হাতপাখা প্রতীকে ৫ হাজার ৮১ ভোট এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের প্রার্থী মো. হাবিবুল্লাহ বটগাছ প্রতীকে ২ হাজার ৭৮৩ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-৮ (বিএনপি)শেষ পর্যন্ত এই আসনে হেরে গেছেন এনসিপি নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ৫ হাজারের বেশি ভোটে বেসরকারিভাবে জিতলেন বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস। ভোটের আগে থেকেই সবচেয়ে আলোচিত আসনগুলোর একটি ছিল ঢাকা-৮। দুই প্রার্থীর কথার লড়াই ভোটের দিনে এসে ভোটের লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। কয়েক দফা থমকে থাকা। একে অপরের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সংবাদ সম্মেলন শেষে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী ফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, এই আসনের ১০৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০৮টিতে সরাসরি ভোটগ্রহণ হয়। এতে বিএনপির মির্জা আব্বাস ৫৬ হাজার ৫৫২ ভোট পান। এর সঙ্গে তিনি ২ হাজার ৮১৪টি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন। তাতে মোট ভোট পড়ে ৫৯ হাজার ৩৬৬। এনসিপির মোহাম্মদ নাসীরুউদ্দীন পাটওয়ারী ১০৮টি কেন্দ্রে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৫৭২ ভোট। এর সঙ্গে তিনি পোস্টাল ভোট পেয়েছেন ২ হাজার ৫৫৫টি। তাতে তার পক্ষে মোট ভোট পড়ে ৫৪ হাজার ১২৭টি।
ঢাকা-৯ (বিএনপি)ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে বেসরকারি ফলাফলে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী হাবিবুর রশিদ। ধানের শীষ প্রতীকে তিনি মোট ১ লাখ ১১ হাজার ২১২ ভোট পেয়েছেন। হাবিবুর রশিদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মোহাম্মদ জাবেদ মিয়া। তিনি পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৪৬০ ভোট। আর এ আসনে সাবেক এনসিপি নেত্রী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৬৮৪ ভোট। শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, ঢাকা-৯ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৭০টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। ঢাকা-৯ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৬৯ হাজার ৩৫৬ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ২১ হাজার ৬৮১ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৯৯৩টি। সেই হিসাবে বৈধ ভোট ২ লাখ ১৭ হাজার ৬৮৮টি। এ আসনে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শাহ ইফতেখার আহসান হাতপাখা প্রতীকে ৫ হাজার ৮২৭ ভোট পেয়েছেন। লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী কাজী আবুল খায়ের পেয়েছেন ১ হাজার ২০২ ভোট।
ঢাকা-১০ (বিএনপি)ঢাকা-১০ আসনে বিএনপির শেখ রবিউলের জয় পেয়েছেন। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় নিজ কার্যালয়ে ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করেন। রবিউল আলম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৪৩৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী জসীম উদ্দিন সরকার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৭৭ হাজার ১৩৬ ভোট। ঢাকা-১০ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৮ হাজার ৬৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ৬০৪ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০ জন।
ঢাকা-১১ (এনসিপি)ঢাকা-১১ আসনের প্রাথমিক ফলাফলে ২ হাজার ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী মো. নাহিদ ইসলাম। এই আসন থেকে শাপলা কলি প্রতীকে তিনি মোট ৯৩ হাজার ৮৭২ ভোট পেয়েছেন। নাহিদ ইসলামের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ুম। তিনি পেয়েছেন ৯১ হাজার ৮৩৩ ভোট। অর্থাৎ নাহিদ কাইয়ুমের চেয়ে ২ হাজার ৩৯ ভোট বেশি পেয়েছেন। শুক্রবার সকাল পৌনে সাতটার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফল ঘোষণা করেন। ঢাকা-১১ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৬৩টি কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ করা হয়। মোট ভোটার ৪ লাখ ৩৯ হাজার ৭৫ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ১ লাখ ৯৬ হাজার ৩৭০ জন। ভোট বাতিল হয়েছে ৩ হাজার ৫১৭টি। সে হিসাবে বৈধ ভোট ছিল ১ লাখ ৯২ হাজার ৮৫৩টি। ভোট পড়ার হার ৪৫।
ঢাকা-১২ (জামায়াত)ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১২ আসনে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী–মনোনীত প্রার্থী সাইফুল আলম। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে তিনি ২২ হাজার ১৮০ ভোটের ব্যবধানে জয় পান। শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। ঘোষিত ফলাফলে দেখা যায়, সাইফুল আলম পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৭৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি এর সাধারণ সম্পাদক (কোদাল প্রতীক) পেয়েছেন ৩০ হাজার ৯৬৩ ভোট। অপরদিকে, ফুটবল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়েছেন ২৯ হাজার ৮৬৯ ভোট। রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময় শেষে কেন্দ্রগুলোতে ভোট গণনা সম্পন্ন করে ফলাফল সংগ্রহ ও সমন্বয়ের পর এ ঘোষণা দেওয়া হয়। ভোটগ্রহণ সামগ্রিকভাবে শান্তিপূর্ণ ছিল বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। ঢাকা-১২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩২০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৪ হাজার ৩৪৯ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৮ হাজার ৯৬৮ জন। প্রাপ্ত ভোটের হিসেবে বিজয়ী প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের উল্লেখযোগ্য অংশ অর্জন করেন।
ঢাকা-১৩ (বিএনপি)ঢাকা-১৩ আসনের ফলাফলে বিএনপি সমর্থিত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ববি হাজ্জাজ বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৮৮ হাজার ৩৮৭টি ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ১১ দলীয় ঐক্যের প্রার্থী মামুনুল হকের চেয়ে ২ হাজার ৩২০ ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, মামুনুল হক পেয়েছেন ৮৬ হাজার ৬৭টি। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে মামুনুল হক তার আসনে বাতিল হওয়া ২ হাজার ৩০০ ভোট নিজের বলে দাবি করে রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয়ে যান। এ সময় রিটার্নিং অফিসার তাকে নির্বাচন কমিশনের কাছে অভিযোগ দিতে বলেন। এই আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৮ হাজার ৭৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৯ হাজার ৮১২ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭১ জন। হিজড়া ভোটার ৮ জন। এই আসনে প্রার্থীরা হলেন, ববি হাজ্জাজ (বিএনপি),মামুনুল হক (বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস), মিজানুর রহমান (গণঅধিকার পরিষদ), সোহেল রানা (স্বতন্ত্র), মোঃ শাহাবুদ্দিন বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি (বিএমজেপি), খালেকুজ্জামান (সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ), শাহরিয়ার ইফতেখার (বাংলাদেশ মুসলিম লীগ), ফাতেমা আক্তার মুনিয়া (ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশ), শেখ মো. রবিউল ইসলাম (স্বতন্ত্র)।
ঢাকা-১৪ (জামায়াত)ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মীর আহমাদ বিন কাসেম বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন। তিনি জামায়াতের প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে মীর আহমাদ বিন কাসেম মোট ১ লাখ ১ হাজার ১১৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির সানজিদা ইসলাম পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৩২৩ ভোট। শুক্রবার ভোর চারটায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফলাফল ঘোষণা করেন। শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, ঢাকা-১৪ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১৭৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ করা হয়। সব মিলিয়ে এই আসনে মীর আহমাদ বিন কাসেম ১৭ হাজার ৭৯০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৭ থেকে ১২ পর্যন্ত ওয়ার্ড ও সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন নিয়ে ঢাকা-১৪ আসন গঠিত। এ আসনে ভোটার ৪ লাখ ৫৬ হাজার ৪৪ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ১০ হাজার ৩১২টি। বাতিল হয় ৩ হাজার ৩৫৬টি। বৈধ ভোট হয় ২ লাখ ৬ হাজার ৯৫৬টি। ঢাকা-১৪ আসনে মোট ১২ জন প্রার্থী ছিলেন। অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক ফুটবল প্রতীকে ১৬ হাজার ৩২৮ ভোট ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. আবু ইউসুফ হাতপাখা প্রতীকে ৩ হাজার ৭৬০ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-১৫ (জামায়াত)ঢাকা-১৫ আসনে জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার সকালে নির্বাচন কমিশনের ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন কেন্দ্র থেকে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়। জামায়াতের আমির মোট ভোট পেয়েছেন ৮৫ হাজার ১৩১টি। তার প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৬৩ হাজার ৫১৭ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে জামায়াতের আমির ২১ হাজার ৬১৪ ভোট বেশি পেয়েছেন। ঢাকা-১৫ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫১ হাজার ৭১৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬১৬ জন। নারী ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৮ জন। এ আসনে তৃতীয় লিঙ্গের চারজন ভোটার আছেন। আটজন প্রার্থী এ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তারা হলেন, শফিকুর রহমান (দাঁড়িপাল্লা), শফিকুল ইসলাম খান (ধানের শীষ), সামসুল হক (লাঙ্গল), আহাম্মদ সাজেদুল হক (কাস্তে), খান শোয়েব আমান উল্লাহ (কলম), মোবারক হোসেন (একতারা), আশফাকুর রহমান (মোটরগাড়ি) ও নিলাভ পারভেজ (প্রজাপতি)।
ঢাকা-১৬ (জামায়াত)ঢাকা-১৬ আসনে ৮৮ হাজার ৮২৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন দাঁড়িপাল্লার আব্দুল বাতেন। এই আসনে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষের আমিনুল হক পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৬৭ ভোট।
ঢাকা-১৭ (বিএনপি)ঢাকা-১৭ আসনের প্রাথমিক ফলাফলে জয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই আসনে তারেক রহমান ৭২ হাজার ৬৯৯ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী স ম খালিদুজ্জামান পেয়েছেন ৬৮ হাজার ৩০০ ভোট। শুক্রবার ভোর ৪টায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফলাফল ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ঢাকা-১৭ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ১২৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। সব মিলিয়ে এই আসনে তারেক রহমান তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর চেয়ে ৪ হাজার ৩৯৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮১৩ জন। এর মধ্যে ভোট পড়ে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৮৮৮টি। বাতিল হয় ২ হাজার ২১১টি। বৈধ ভোট হয় ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬৭৭টি। ঢাকা-১৭ আসনের অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মোহাম্মদ উল্যাহ হাতপাখা প্রতীকে ১ হাজার ৭৬৮ ভোট ও জাতীয় পার্টির আতিক আহমেদ লাঙ্গল প্রতীকে ১ হাজার ১৬৮ ভোট পেয়েছেন।
ঢাকা-১৮ (বিএনপি)ঢাকা-১৮ আসনে এনসিপির প্রার্থীকে ৩৩ হাজারের বেশি ভোটে হারিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মোট (পোস্টাল ব্যালটসহ) ১ লাখ ৪৪ হাজার ৭১৫ ভোট পেয়েছেন। আর এনসিপির প্রার্থী আরিফুল ইসলাম পেয়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ২৯৭ ভোট। শুক্রবার ভোর চারটায় রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (রিটার্নিং কর্মকর্তা) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী এ ফলাফল ঘোষণা করেন। শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী জানান, ঢাকা-১৮ আসনে পোস্টাল ভোটসহ ২১৯টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়। এই আসনে মোট ভোটার ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৭৯ জন। এর মধ্যে ভোট দিয়েছেন ২ লাখ ৭৪ হাজার ৭৭২ জন। বাতিল হয় ৪ হাজার ৭৮৪টি ভোট। ভোট পড়ে ৪৫ শতাংশ। ঢাকা-১৮ আসনে অন্যান্য প্রার্থীর মধ্যে নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না কেটলি প্রতীকে ৩৫০ ভোট, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন হাতপাখা প্রতীকে ৪ হাজার ৭২৭ ভোট, লাঙ্গল প্রতীকে জাতীয় পার্টির জাকির হোসেন ২ হাজার ৫৫৭ ভোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিন হাওলাদার রেল ইঞ্জিন প্রতীকে ৩ হাজার ২০৫ ভোট পেয়েছেন।
এসএনআর/এএসএম